শনিবার , ২৫ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীউত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ
সাজাপ্রাপ্ত রাসেলের খোঁজে প্রশ্ন

উত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
উত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ

রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের আলোচিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মনোয়ারুল হাসান রাসেল ওরফে ‘চিট রাসেল’কে একটি মাদক মামলায় আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিলেও এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হননি বলে জানা গেছে। আদালতের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়টি সামনে আসার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪-এ দায়রা মামলা নং-৩০৯৫/২০২১-এর (কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৮ (০৯)১৯) বিচার শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে আদালতের রায়ের পরও তিনি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মনোয়ারুল হাসান রাসেল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়া তালতলা এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক মাদক মামলায় তার নাম উঠে এসেছে এবং উত্তরাঞ্চলের মাদক সরবরাহ চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাসেল ও তার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে তাদের ভাড়া বাসা থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা এলাকায় র‌্যাব-১২-এর অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি ট্রাকসহ রাসেলকে আটকের তথ্য পাওয়া যায়। ওই সময় উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় রাসেল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় ইয়াবা সরবরাহকারীদের একজন হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক থাকার অভিযোগও উঠে আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাসেল একসময় পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজশাহী শহর ও আশপাশের এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ অর্জনের বিষয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং বৈধতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করে থাকলে শুধু মাদক মামলার সাজাই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং অর্থ পাচারের বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক তদন্ত কেন দৃশ্যমান নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, আদালতের সাজা কার্যকর করার পাশাপাশি রাসেলের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থার বক্তব্য ও রাশেলের বর্পতমান অবস্থান নিয়ে পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশ করা হবে।

উত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ
সাজাপ্রাপ্ত রাসেলের খোঁজে প্রশ্ন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৪ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ২৫ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীউত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ
সাজাপ্রাপ্ত রাসেলের খোঁজে প্রশ্ন

উত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
উত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ

রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের আলোচিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত মনোয়ারুল হাসান রাসেল ওরফে ‘চিট রাসেল’কে একটি মাদক মামলায় আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিলেও এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হননি বলে জানা গেছে। আদালতের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়টি সামনে আসার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৪-এ দায়রা মামলা নং-৩০৯৫/২০২১-এর (কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৮ (০৯)১৯) বিচার শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মনোয়ারুল হাসান রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে আদালতের রায়ের পরও তিনি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মনোয়ারুল হাসান রাসেল রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার আঁচুয়া তালতলা এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘চিট রাসেল’ নামে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক মাদক মামলায় তার নাম উঠে এসেছে এবং উত্তরাঞ্চলের মাদক সরবরাহ চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর রাতে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকায় মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাসেল ও তার স্ত্রী মরিয়মকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে তাদের ভাড়া বাসা থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা এলাকায় র‌্যাব-১২-এর অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি ট্রাকসহ রাসেলকে আটকের তথ্য পাওয়া যায়। ওই সময় উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় রাসেল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় ইয়াবা সরবরাহকারীদের একজন হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকায় তার মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক থাকার অভিযোগও উঠে আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাসেল একসময় পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজশাহী শহর ও আশপাশের এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ অর্জনের বিষয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং বৈধতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করে থাকলে শুধু মাদক মামলার সাজাই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং অর্থ পাচারের বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক তদন্ত কেন দৃশ্যমান নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, আদালতের সাজা কার্যকর করার পাশাপাশি রাসেলের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্ত সংস্থার বক্তব্য ও রাশেলের বর্পতমান অবস্থান নিয়ে পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশ করা হবে।

উত্তরাঞ্চলের মাদক নেটওয়ার্কের অভিযোগ
সাজাপ্রাপ্ত রাসেলের খোঁজে প্রশ্ন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৪ জুলাই ২০২৬