জরিমানার পরও থামেনি অবৈধ বালু উত্তোলন-প্রশাসনকে ম্যানেজ’ করার দাবি
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিগোপাড়া মোড় এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মোবাইল কোর্টে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, মামলা এবং চারটি ড্রেজার জব্দের পরও থামেনি বালু উত্তোলন কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানের কয়েকদিন পর আবারও ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছেন অভিযুক্ত মামুনর রশিদ মামুন (পিতা: আসমতউল্লাহ, গ্রাম: বিগোপাড়া, উপজেলা: বাগমারা)।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের কারণে আশপাশের বসতভিটা ও আবাদি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে বালু বহনকারী ভারী যানবাহনের চলাচল ও মাটি কাটার কারণে স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২০ জুন (শনিবার) উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিগোপাড়া মোড় এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম আহমেদ।
অভিযানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী একজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত চারটি ড্রেজার জব্দ করে অকেজো করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযানের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রাকৃতিক পরিবেশ, কৃষিজমি এবং নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ওই অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বর্তমানে আবারও একই স্থানে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ড্রেজার দিয়ে পুকুর থেকে বালু তোলার কারণে পুকুরের পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং আশপাশের জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
বালু উত্তোলনকারী মামুনর রশিদ মামুন দাবি করছেন, তিনি প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেছেন এবং এ কারণে আবারও বালু উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মামুনর রশিদ মামুন বলেন, “প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিছুদিন সময় পেয়েছি, তাই কাজ চলমান রেখেছি।”
তবে তার এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে শুধু অভিযান নয়, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। তারা দ্রুত পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।