হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা আদেশ উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
হাইকোর্ট বিভাগের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ অমান্য করে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুল ওহাব। একই সঙ্গে তিনি ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) মামলার ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিট থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকায় ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. আব্দুল ওহাব বলেন, তাঁর মা মরহুমা রহিমা খাতুনের নামে এসএ খতিয়ান নং-৯৮ এবং এসএ দাগ নং-৬৭৮/৭৫৯ অনুযায়ী ০.১৫৩৭ একর জমি ছিল। পরবর্তীতে আরএস জরিপেও একই পরিমাণ জমি তাঁর মায়ের নামে সঠিকভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়। এসএ ও আরএস—উভয় খতিয়ানের মন্তব্য কলামে ভিপি (V.P.) বা সরকারের অনুকূলে কোনো ধরনের মন্তব্য ছিল না।
তার অভিযোগ, এরপরও ২০২০ সালের ২২ জুন জেলা প্রশাসক, রাজশাহীর স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ওই সম্পত্তিকে ভিপি (V.P.) মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে দুদকের বিভাগীয় ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের অফিস ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও তাঁকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে তিনি এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরিবর্তে (তার বক্তব্য অনুযায়ী) হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এসি ল্যান্ডকে খাজনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু খাজনা দিতে গেলে বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়, জমিটি ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের নামে নামজারি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় তিনি পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নং-২০৬৪৮/২০২৫ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ছয় মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোয়ালিয়াকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী।
তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এল/এ কেস নং-৪/১৯-২০ অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত পরিশোধ এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগী মো. আব্দুল ওহাবের বক্তব্য। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।