রবিবার , ০৫ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীএইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অমিত কুমার শাহ নামের এক কলেজ অফিস সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে লালপুর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম। 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ইশরাত জাহান সূচি নামের এক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে কলেজের অফিস কক্ষের সামনে যান। সেখানে কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে তার দেখা হয়। অমিত কুমার সূচিকে অফিসে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ফরম পূরণের কথা জানান। তখন অভিযুক্ত অফিস সহকারী ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ছবি, টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেন। সরল বিশ্বাসে সূচি টাকা ও কাগজপত্র তার কাছে জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে ফরম পূরণের খোঁজ নিতে চাইলে অমিত কুমার সময়মতো কাজ হয়ে যাবে বলে বারবার আশ্বস্ত করতে থাকেন।

গত ২৯ জুন কলেজটিতে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হয়। সূচি প্রবেশপত্র আনতে কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত অমিত কুমার তার মোবাইল ফোনে কল করে জানান, ‘প্রিন্সিপাল স্যার প্রবেশপত্র আনার জন্য রাজশাহী আছেন, তাই পরদিন কলেজে আসতে হবে’।

পরদিন ৩০ জুন সূচি ও তার বাবা কলেজে গেলে অমিত কুমার তাদের জানান, প্রবেশপত্রে কিছু ভুল থাকার কারণে তা সংশোধনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে, সংশোধন শেষে তা দেওয়া হবে। এর পরদিন ১ জুলাই অভিযুক্ত অমিত সূচির মায়ের মোবাইলে ফোন করে জানান, প্রবেশপত্রের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি নিজেই রাজশাহী যাচ্ছেন।

অফিস সহকারীর এমন অসংলগ্ন ও কালক্ষেপণমূলক কথাবার্তায় সূচীর বাবার সন্দেহ হয়। তিনি গত বুধবার সকালে মেয়েকে নিয়ে সরাসরি কলেজের অধ্যক্ষের দ্বারস্থ হন। তখন অধ্যক্ষ কলেজের কম্পিউটারে ফরম পূরণের ডাটাবেজ যাচাই করে দেখতে পান যে, ইশরাত জাহান সূচির ফরম পূরণ আদৌ করা হয়নি। শুধু সূচিই নন, একইভাবে আরও ৭ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই অফিস সহকারী।

বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীরা নিশ্চিত হন যে, অফিস সহকারী অমিত কুমার ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা বোর্ডে জমা না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে এতদিন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম আরও জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে এমন জঘন্য প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অমিত কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে লালপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৪ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ০৫ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীএইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার

নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অমিত কুমার শাহ নামের এক কলেজ অফিস সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে লালপুর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম। 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ইশরাত জাহান সূচি নামের এক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে কলেজের অফিস কক্ষের সামনে যান। সেখানে কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সঙ্গে তার দেখা হয়। অমিত কুমার সূচিকে অফিসে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ফরম পূরণের কথা জানান। তখন অভিযুক্ত অফিস সহকারী ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ছবি, টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেন। সরল বিশ্বাসে সূচি টাকা ও কাগজপত্র তার কাছে জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে ফরম পূরণের খোঁজ নিতে চাইলে অমিত কুমার সময়মতো কাজ হয়ে যাবে বলে বারবার আশ্বস্ত করতে থাকেন।

গত ২৯ জুন কলেজটিতে এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হয়। সূচি প্রবেশপত্র আনতে কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত অমিত কুমার তার মোবাইল ফোনে কল করে জানান, ‘প্রিন্সিপাল স্যার প্রবেশপত্র আনার জন্য রাজশাহী আছেন, তাই পরদিন কলেজে আসতে হবে’।

পরদিন ৩০ জুন সূচি ও তার বাবা কলেজে গেলে অমিত কুমার তাদের জানান, প্রবেশপত্রে কিছু ভুল থাকার কারণে তা সংশোধনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে, সংশোধন শেষে তা দেওয়া হবে। এর পরদিন ১ জুলাই অভিযুক্ত অমিত সূচির মায়ের মোবাইলে ফোন করে জানান, প্রবেশপত্রের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি নিজেই রাজশাহী যাচ্ছেন।

অফিস সহকারীর এমন অসংলগ্ন ও কালক্ষেপণমূলক কথাবার্তায় সূচীর বাবার সন্দেহ হয়। তিনি গত বুধবার সকালে মেয়েকে নিয়ে সরাসরি কলেজের অধ্যক্ষের দ্বারস্থ হন। তখন অধ্যক্ষ কলেজের কম্পিউটারে ফরম পূরণের ডাটাবেজ যাচাই করে দেখতে পান যে, ইশরাত জাহান সূচির ফরম পূরণ আদৌ করা হয়নি। শুধু সূচিই নন, একইভাবে আরও ৭ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই অফিস সহকারী।

বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীরা নিশ্চিত হন যে, অফিস সহকারী অমিত কুমার ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা বোর্ডে জমা না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে এতদিন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম আরও জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে এমন জঘন্য প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অমিত কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে লালপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা আত্মসাৎ, অফিস সহকারী গ্রেপ্তার
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৪ জুলাই ২০২৬