পুঠিয়া রাজবাড়ি ও গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে ব্রুনেইর রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ প্রত্নঐতিহ্য, শতবর্ষের ইতিহাস ও টেরাকোটার অনন্য স্থাপত্যশৈলীকে কাছ থেকে জানতে রাজশাহীর ঐতিহাসিক পুঠিয়া রাজবাড়ি ও গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রুনেই দারুসসালামের রাষ্ট্রদূত হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি এ ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সফর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে সড়কপথে পুঠিয়া রাজবাড়ি চত্বরে পৌঁছালে রাষ্ট্রদূতকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান এবং রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি প্রতিনিধি দলসহ রাজবাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যশৈলী ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে রাষ্ট্রদূত প্রাচীন গোবিন্দ মন্দিরে যান। সেখানে টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ, প্রাচীন নির্মাণশৈলী, মন্দিরের নান্দনিক সৌন্দর্য এবং স্থাপত্যের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে পুঠিয়া রাজপরিবারের ইতিহাস, জমিদারি আমলের স্থাপত্য নিদর্শন, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রুনেই দূতাবাসের প্রথম সচিব মাজি রোজাইমি বিন দাতো পদুকা হাজি আবদুল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাবেক সম্পাদক আবদুল রহমান।
প্রায় ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সফর শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে প্রতিনিধি দলটি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে পুঠিয়া ত্যাগ করেন। সফরকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ি এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পুরো সফর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পুঠিয়া রাজবাড়ি ও এর মন্দিরসমূহ উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। মুঘল ও জমিদারি আমলের স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটক, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও কূটনীতিকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে গোবিন্দ মন্দিরের টেরাকোটার কারুকাজ বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার অন্যতম উৎকৃষ্ট নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি কূটনীতিকদের এমন সফর কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রত্নসম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও পরিচিত করে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। তারা মনে করেন, এ ধরনের সফর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।