শনিবার , ০৪ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব

রাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব

আষাঢ় মাস চললেও রাজশাহীতে এখনো কাঙ্ক্ষিত বর্ষণের দেখা মেলেনি। ভারী বৃষ্টির অভাবে নগরীতে জলাবদ্ধতা না হলেও নীরবে বাড়ছে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার উপদ্রব। প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। জরিপে দেখা গেছে, রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি, যা সম্ভাব্য ডেঙ্গু সংক্রমণের বড় ধরনের আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জুন মাসের শেষ ২০ দিন এবং জুলাই মাসের প্রথম দুই দিনে মোট ২১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও এই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ জুন একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে জুন মাসে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ওই দিন আরও দুইজন চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তি না হলেও দুইজন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। ১৩ ও ১৪ জুন একজন করে রোগী ভর্তি হন। ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন নতুন রোগী না এলেও দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ২০ জুন একজন এবং ২২ জুন আরও একজন রোগী ভর্তি হন। এরপর ২৩ জুন তিনজন ও ২৪ জুন দুইজন নতুন রোগী ভর্তি হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছে যায়। ২৫ জুন দুইজন নতুন রোগী ভর্তি হলেও একই দিনে দুইজন ছাড়পত্র পান। ২৭ জুন একজন, ২৯ জুন একজন এবং ৩০ জুন নতুন করে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। ১ জুলাই একজন ভর্তি হলেও দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। সর্বশেষ ২ জুলাই আরও দুইজন রোগী ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মে মাসে পরিচালিত প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো এলাকায় এই সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটিকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসাবে রাজশাহী বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

জরিপে নগরীর ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে পরীক্ষা করা ৫২টি পানিধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটি এবং প্রায় অর্ধেক পানিধারণকারী পাত্রে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বর্ষার ভারী বৃষ্টি শুরু হলে এসব স্থানে আরও বেশি পানি জমে এডিস মশার প্রজনন দ্রুত বাড়তে পারে, যার ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, নগরীতে লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক এডিস মশার উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

রাজশাহী জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা বলেন, এডিস মশা এখন শুধু প্রচলিত পরিষ্কার পানির উৎসেই নয়, মানুষের অসচেতনতার কারণেও বিভিন্ন স্থানে বংশবিস্তার করছে। জরিপে ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র, শিশুদের খেলনা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন ধরনের পানিধারণকারী সামগ্রীতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসাবাড়ি, ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার করা এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, বর্ষা সামনে রেখে নগরীর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে নালা-নর্দমা পরিষ্কার, ময়লা অপসারণ এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রয়োজনীয় স্থানে লার্ভা ধ্বংসে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবার নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৩ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ০৪ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব

রাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব

আষাঢ় মাস চললেও রাজশাহীতে এখনো কাঙ্ক্ষিত বর্ষণের দেখা মেলেনি। ভারী বৃষ্টির অভাবে নগরীতে জলাবদ্ধতা না হলেও নীরবে বাড়ছে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার উপদ্রব। প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। জরিপে দেখা গেছে, রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত ঝুঁকিমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি, যা সম্ভাব্য ডেঙ্গু সংক্রমণের বড় ধরনের আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জুন মাসের শেষ ২০ দিন এবং জুলাই মাসের প্রথম দুই দিনে মোট ২১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও এই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, তবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ জুন একজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে জুন মাসে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। ওই দিন আরও দুইজন চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তি না হলেও দুইজন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়েন। ১৩ ও ১৪ জুন একজন করে রোগী ভর্তি হন। ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন নতুন রোগী না এলেও দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ২০ জুন একজন এবং ২২ জুন আরও একজন রোগী ভর্তি হন। এরপর ২৩ জুন তিনজন ও ২৪ জুন দুইজন নতুন রোগী ভর্তি হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছে যায়। ২৫ জুন দুইজন নতুন রোগী ভর্তি হলেও একই দিনে দুইজন ছাড়পত্র পান। ২৭ জুন একজন, ২৯ জুন একজন এবং ৩০ জুন নতুন করে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। ১ জুলাই একজন ভর্তি হলেও দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। সর্বশেষ ২ জুলাই আরও দুইজন রোগী ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে চারজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মে মাসে পরিচালিত প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো এলাকায় এই সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটিকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসাবে রাজশাহী বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

জরিপে নগরীর ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে পরীক্ষা করা ৫২টি পানিধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটি এবং প্রায় অর্ধেক পানিধারণকারী পাত্রে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বর্ষার ভারী বৃষ্টি শুরু হলে এসব স্থানে আরও বেশি পানি জমে এডিস মশার প্রজনন দ্রুত বাড়তে পারে, যার ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের এন্টো-টেকনিশিয়ান আব্দুল বারী বলেন, নিয়মিত প্রাক-বর্ষা নজরদারির অংশ হিসেবে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, নগরীতে লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক এডিস মশার উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

রাজশাহী জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা বলেন, এডিস মশা এখন শুধু প্রচলিত পরিষ্কার পানির উৎসেই নয়, মানুষের অসচেতনতার কারণেও বিভিন্ন স্থানে বংশবিস্তার করছে। জরিপে ফুলের টব, ছাদবাগান, খোলা নারকেলের খোসা, দইয়ের পাত্র, শিশুদের খেলনা, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন ধরনের পানিধারণকারী সামগ্রীতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসাবাড়ি, ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার করা এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, বর্ষা সামনে রেখে নগরীর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে নালা-নর্দমা পরিষ্কার, ময়লা অপসারণ এবং মশা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও প্রয়োজনীয় স্থানে লার্ভা ধ্বংসে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবার নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজশাহীতে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৩ জুলাই ২০২৬