শনিবার , ০৪ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদপ্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিলন
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেছেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করছে। সরকারের বরাদ্দ এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের প্রাপ্তির মধ্যে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বসতঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মোট ২৭ লাখ ১১ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল, ১২০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি, ১২ জনকে সেলাই মেশিন এবং চারটি পরিবারকে বসতঘর প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক, আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।

তিনি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিকূল পরিবেশেও তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ করতে যাতায়াতের সুবিধার্থে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন এবং গৃহহীনদের জন্য বসতঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমপি মিলন আরও বলেন, পবা-মোহনপুরসহ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনেও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এনে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থী রত্না বিশ্বাস। পবা উপজেলার খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রত্নার বাবা একজন রাজমিস্ত্রি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পক্ষে মেয়েকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে রত্নাকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হতো।

রত্না জানায়, আগে স্কুলে যেতে অনেক সময় লাগত এবং নিয়মিত সময়মতো পৌঁছানো কঠিন ছিল। এখন বাইসাইকেল পাওয়ায় মাত্র ১০ মিনিটেই বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারবে। এতে সময় বাঁচবে এবং আরও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। এসব সহায়তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সহজ করার পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উপকারভোগীদের সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রাজ কুমার শাও, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৩ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ০৪ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদপ্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিলন
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে

রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেছেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করছে। সরকারের বরাদ্দ এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের প্রাপ্তির মধ্যে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হবে না। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বসতঘর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মোট ২৭ লাখ ১১ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল, ১২০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি, ১২ জনকে সেলাই মেশিন এবং চারটি পরিবারকে বসতঘর প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক, আদিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের ভোটের আমানত রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।

তিনি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিকূল পরিবেশেও তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ করতে যাতায়াতের সুবিধার্থে বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রান্তিক পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন এবং গৃহহীনদের জন্য বসতঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমপি মিলন আরও বলেন, পবা-মোহনপুরসহ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আগামী দিনেও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এনে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নতুন বাইসাইকেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থী রত্না বিশ্বাস। পবা উপজেলার খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রত্নার বাবা একজন রাজমিস্ত্রি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার পক্ষে মেয়েকে একটি সাইকেল কিনে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে রত্নাকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হতো।

রত্না জানায়, আগে স্কুলে যেতে অনেক সময় লাগত এবং নিয়মিত সময়মতো পৌঁছানো কঠিন ছিল। এখন বাইসাইকেল পাওয়ায় মাত্র ১০ মিনিটেই বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারবে। এতে সময় বাঁচবে এবং আরও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। এসব সহায়তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সহজ করার পাশাপাশি পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উপকারভোগীদের সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রাজ কুমার শাও, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকারের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৩ জুলাই ২০২৬