জিআই স্বীকৃত রাজশাহীর মিষ্টি পান সংরক্ষণে হিমাগারের দাবি
ঐতিহ্য, স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য সুপরিচিত রাজশাহীর মিষ্টি পান এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও সমাদৃত। ২০২৪ সালে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এ পানের পরিচিতি ও বাজার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবে মৌসুমে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ পান দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় রাজশাহীতে একটি আধুনিক হিমাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি পানের চাষ হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পান সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাজারেও রাজশাহীর মিষ্টি পানের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় রপ্তানির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।
স্থানীয় পানচাষি মো. আব্দুল কাদের বলেন, "মৌসুমে উৎপাদন বেশি হলে বাজারে দাম কমে যায়। হিমাগার না থাকায় পান সংরক্ষণ করা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়। একটি আধুনিক হিমাগার হলে আমরা ন্যায্যমূল্য পেতাম।"
ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "বিদেশে রাজশাহীর মিষ্টি পানের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বড় চালান পাঠাতে সমস্যায় পড়তে হয়। আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ হলে রপ্তানি আরও বাড়বে।"
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, "জিআই স্বীকৃতি এই অঞ্চলের কৃষির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এখন উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রপ্তানি আয়ও বাড়বে।"
কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, হিমাগার নির্মাণ করা হলে দীর্ঘ সময় পানের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হবে। বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক বাজারে রাজশাহীর মিষ্টি পানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, জিআই স্বীকৃত রাজশাহীর মিষ্টি পানের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, উন্নত প্যাকেজিং ব্যবস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তাদের মতে, সময়োপযোগী এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই সম্ভাবনাময় খাতের টেকসই উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।