রাজশাহীতে ডিবি ও থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার
রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও বাঘা উপজেলায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ‘এসকাফ’ (ESkuf) সিরাপ, একটি প্রাইভেটকার এবং ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ছয়জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারি পালিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্র রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সরবরাহের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন রাতে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঘা থানা পুলিশ পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানে গোদাগাড়ী থানার সারোইল এলাকায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে ডিবি পুলিশের একটি দল নিয়মিত চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক রাজশাহীর দিকে আনা হচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে পুলিশ ওই সড়কে নজরদারি বাড়ায় এবং সন্দেহভাজন যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ‘ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-১২৪৭’ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে গাড়ির পেছনের ডিকিতে রাখা তিনটি কার্টনের ভেতর থেকে মোট ৪৫০ বোতল ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, এসব সিরাপ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বহুলাবাড়ি কানসাট গ্রামের মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মো. মাহাবুব আলম (২৭) এবং গুয়াবাড়ি চাঁদপুর গ্রামের লাইসেন আলীর ছেলে মো. কাওসার আলীকে (২১) গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এবং এই চালানের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, পাচারের রুট এবং গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে একই রাতে বাঘা থানার একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ গাওপাড়া গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মো. শাকিব হাসান নামে এক ব্যক্তিকে ৬৮ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সঙ্গে থাকা আরও ছয়জন সহযোগী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তাদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, গোদাগাড়ীতে উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ ‘এসকাফ’ সিরাপ এবং বাঘায় উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গোদাগাড়ী ও বাঘা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক পাচার রোধে জেলা পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়িয়েছে এবং তথ্যভিত্তিক অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।