সারাদেশে বজ্রপাতে নারীসহ ১৬ জনের মৃত্যু
দেশের ১০ জেলায় বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির মধ্যে ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনে নারীসহ ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশের ৮টি জেলায় পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।
মৃতদের বেশিরভাগই কৃষক, জেলে কিংবা দিনমজুর, যারা জীবিকার তাগিদে বা দৈনন্দিন কাজে বাইরে ছিলেন। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ৪ জন মারা গেছেন এবং বজ্রপাতে ওই জেলায় অন্তত অর্ধশতাধিক গরুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া জামালপুর ও বরগুনায় ২ জন করে এবং রাজবাড়ী, ময়মনসিংহ, রংপুর, শরীয়তপুর ও বাগেরহাটে ১ জন করে মারা গেছেন।
নিচে জেলাভিত্তিক বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরা হলোঃ-
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে এক
নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৯টায় রাঙ্গাবালীতে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) মারা যান। কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে দুপুর ১টায় ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) এবং দুপুর ২টায় গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) প্রাণ হারান। প্রায় একই সময়ে মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে শান্তিপুর গ্রামের খালেক হাওলাদার (৫৫) মারা যান। এছাড়া গত দুদিনে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীসহ জেলায় বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুর: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সকাল ৬টার দিকে গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি এলাকায় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া (৩৫) নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যান। মৃত শামীম এক কন্যা সন্তানের জনক। অন্যদিকে, সকাল ৯টার দিকে সাপধরী ইউনিয়নে এলজিইডির একটি সড়কের নির্মাণকাজ চলাকালে বজ্রপাতে সাগর ইসলাম (১৮) নামে আরেক তরুণের মৃত্যু হয়।
বরগুনা: বরগুনায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে এক জেলে ও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আমতলী উপজেলার পূজাখোলা এলাকায় ফসলের মাঠে জমাট বাঁধা পানিতে মাছ শিকার করছিলেন কৃষক নূরজামাল (৫৪)। এ সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা এলাকায় বলেশ্বর নদীতে নৌকায় মাছ শিকার করার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান জেলে মো. আল-আমিন। আমতলীতে মৃতের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী: রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সি মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটি সুস্থ আছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সাদ্দাম হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও আকস্মিক বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই সাদ্দামের মৃত্যু হয়। মৃত সাদ্দাম কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
রংপুর: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে রান্নার জ্বালানি বা খড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে সাহেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টির পর দুপুরে বেগ কিছুটা কমলে তিনি বাড়ির পাশে খড়ি কুড়াতে বের হন। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ শিকারের সময় বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক জেলে মারা গেছেন। বুধবার দুপুরে জপসা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তীরে আনলেও তিনি আগেই মারা যান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে ঝড়-বৃষ্টি কিছুটা কমার পর গ্রামের খোলা মাঠে গরু আনতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে মৃতের শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বজ্রপাতে দুজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছে। এরমধ্যে মাঠে হাঁস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আয়েশা আক্তার (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের হারজী নলবুনিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের সবুজ নগর গ্রামে মশিউর রহমান তালুকদারের ছেলে স্বাধীন তালুকদার (২২) মাঠে গরু আনতে গেলে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে মাঠে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের লোকজন ধারণা করেন বজ্রপাতের কারণে স্বাধীন তালুকদারের ঘটনা স্থানে মৃত্যু হয়।
এছাড়াও উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে মোঃ হাসান(২৫ ) বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন। তার সাথে থাকা সঙ্গী সোহেল জানান, বজ্রপাতের সময় তিনি নদীতে পড়ে যান। পরবর্তীতে খুঁজে আর তাকে পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জে মো. জাকির হোসেন খান (৩২) নামে এক যুবক বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন।নিহত জাকির উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বারাইয়া গ্রামের সুলতান খানের ছেলে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বরাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।