মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি

রাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:-
রাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি

রাজশাহী মহানগরীতে দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় দুই বছর আগে মৃত্যুবরণ করা এক ব্যক্তিকে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি আইন প্রয়োগ ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলা নম্বর ৩২-এ রাজশাহীর সিরোইল বাস টার্মিনালে বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়। মামলার বাদী সুলতানাবাদ এলাকার বাসিন্দা শাজাহান আলী।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং ৩ নম্বর আসামি হিসেবে তার ছেলে সানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সানি নিজেই বিস্ফোরণ ঘটান এবং ঘটনাস্থলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সূত্র, পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সানি প্রায় দুই বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি তার মৃত্যুর খবর সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—দুই বছর আগে মৃত একজন ব্যক্তি কীভাবে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় জড়িত থাকেন? আরও বিস্ময়ের বিষয়, মামলার বাদী দাবি করেছেন, তিনি নাকি সানিকে ঘটনাস্থলে ধাওয়া করতেও দেখেছেন।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগর পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দায়ের করা এ মামলার পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে বাসমালিক সমিতির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধনের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সূত্রটি আরও জানায়, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বাস টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম, বিশেষ করে জুয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। এসব কার্যক্রম আড়াল করতে বা পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মামলাটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রকৃতপক্ষে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়ে থাকে, তবে তা গুরুতর তদন্তগত ত্রুটি কিংবা উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির ইঙ্গিত দেয়। এতে নিরপরাধ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি বিচার ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ ধরনের বিতর্কিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

রাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৬ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি

রাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:-
রাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি

রাজশাহী মহানগরীতে দায়ের করা একটি বিস্ফোরক মামলাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় দুই বছর আগে মৃত্যুবরণ করা এক ব্যক্তিকে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি আইন প্রয়োগ ও তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল বোয়ালিয়া মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলা নম্বর ৩২-এ রাজশাহীর সিরোইল বাস টার্মিনালে বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়। মামলার বাদী সুলতানাবাদ এলাকার বাসিন্দা শাজাহান আলী।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং ৩ নম্বর আসামি হিসেবে তার ছেলে সানির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সানি নিজেই বিস্ফোরণ ঘটান এবং ঘটনাস্থলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সূত্র, পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সানি প্রায় দুই বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি তার মৃত্যুর খবর সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—দুই বছর আগে মৃত একজন ব্যক্তি কীভাবে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় জড়িত থাকেন? আরও বিস্ময়ের বিষয়, মামলার বাদী দাবি করেছেন, তিনি নাকি সানিকে ঘটনাস্থলে ধাওয়া করতেও দেখেছেন।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগর পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দায়ের করা এ মামলার পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে বাসমালিক সমিতির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধনের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সূত্রটি আরও জানায়, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বাস টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম, বিশেষ করে জুয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। এসব কার্যক্রম আড়াল করতে বা পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই মামলাটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রকৃতপক্ষে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়ে থাকে, তবে তা গুরুতর তদন্তগত ত্রুটি কিংবা উদ্দেশ্যমূলক হয়রানির ইঙ্গিত দেয়। এতে নিরপরাধ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়েন, তেমনি বিচার ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ ধরনের বিতর্কিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।

রাজশাহীতে মৃত ব্যক্তি যখন বিস্ফোরক মামলার আসামি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৬ এপ্রিল ২০২৬