জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে আরএমপি পুলিশের কঠোর বার্তা
রাজশাহীতে জনবান্ধব, হয়রানিমুক্ত ও প্রগতিশীল পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর ও সময়োপযোগী নির্দেশনা প্রদান করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কর্তৃপক্ষ। আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ মঙ্গলবার বিকেলে আরএমপি সদর দপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই নির্দেশনা দেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। মহানগরীর প্রতিটি থানায় কর্মরত সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই)-দের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
সভায় পুলিশ কমিশনার দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করেন যে, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা ভূমি দখল সংক্রান্ত দেওয়ানি বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রকার অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করবে না; কারণ এটি পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিকদের যেকোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ প্রদান করা হয়।
মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে কতিপয় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রাস্তাঘাট কিংবা ফুটপাত বেআইনিভাবে দখল করে মালামাল রেখে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হকার ও দোকানদারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, থানা এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত ও কার্যকর পুলিশি টহল বহুগুণ বাড়িয়ে চুরি, ছিনতাই ও সমাজবিরোধীদের অপতৎপরতা কঠোরহস্তে দমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সময়ের অন্যতম সামাজিক ব্যাধি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। একই সঙ্গে, মাদক কারবারিদের শক্তহাতে শনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় আনতে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়।
জনসাধারণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব ঘুচিয়ে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার অংশ হিসেবে নাগরিকদের সঙ্গে সদাচরণ, স্বল্পতম সময়ে গুণগত সেবা প্রদান, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের পরিধি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
উক্ত পর্যালোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জনাব মো: ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) জনাব মো: আবুল কালাম সাহিদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র জনাব মো: গাজিউর রহমান, পিপিএমসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।