নওগাঁর ছয় আসনে ৩২ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক পাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নির্বাচনী প্রচারণা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেন।
রিটার্নিং অফিসার জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করতে পারবেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলেও তিনি জানান।
নওগাঁর ছয়টি আসনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নওগাঁ-১ (সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর): মোস্তাফিজুর রহমান (বিএনপি)—ধানের শীষ; কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস (এনসিপি)—মাছ।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট): সামসুজ্জোহা খান (বিএনপি)—ধানের শীষ; এনামুল হক (জামায়াত)—দাঁড়িপাল্লা; মতিবুল ইসলাম (এবি পার্টি)—ঈগল।
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছি):ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি)—ধানের শীষ; খবিরুল ইসলাম (জামায়াত)—দাঁড়িপাল্লা।
নওগাঁ-৪ (মান্দা):একরামুল বারী টিপু (বিএনপি)—ধানের শীষ।
নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর): জাহিদুল ইসলাম ধলু (বিএনপি)—ধানের শীষ; আবু সাদাত মো. সায়েম (জামায়াত)—দাঁড়িপাল্লা; আনোয়ার হোসেন (জাতীয় পার্টি)—লাঙ্গল।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর):শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু (বিএনপি)—ধানের শীষ।
এ ছাড়া পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী পৃথক পৃথক প্রতীক পেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী তাদের নিবন্ধিত প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আইন মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য তিনি প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতীক পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধিকাংশ প্রার্থী সন্তোষ প্রকাশ করলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নওগাঁ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
প্রতীক বরাদ্দের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁর হাট-বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগে প্রার্থীরা মাইকিং, পোস্টার ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন।