একুশে ফেব্রুয়ারি ও মে দিবসেও ক্লাস চলবে
একুশে ফেব্রুয়ারি, মে দিবস ও সরস্বতী পূজাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও ধর্মীয় দিবসের ছুটি বাতিল করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য এ ছুটির তালিকা জারি করা হয়েছে।
উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিনের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অতিথির পরিদর্শন উপলক্ষে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া যাবে না। সংবর্ধনা কিংবা পরিদর্শনের অজুহাতে ক্লাস বন্ধ রাখা বা শিক্ষার্থীদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সম্মান প্রদর্শন করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ছুটি রাখা হয়েছে ৬৪ দিন, যা বিদায়ী ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ১২ দিন কম। ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তে শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরলেও জাতীয় চেতনা, ধর্মীয় অনুভূতি ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট দিবসগুলোর ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে। তাঁর মতে, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ এবং ভবিষ্যতে একটি নির্বাচিত সরকার এসে এসব বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার টিওরী উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জসীম উদ্দিন পাল বলেন, সিলেবাস সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণির জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত ক্লাস প্রয়োজন। সে দিক থেকে ছুটি কিছুটা কমানো শিক্ষার্থীদের উপকারেই আসবে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শবে মিরাজ, জন্মাষ্টমী, আশুরা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও অন্যান্য কয়েকটি ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসে বিদ্যালয় খোলা থাকবে। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসের বেশির ভাগ সময়ই স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছুটির তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হলে ২১ রমজান পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করতে হবে।
বিদায়ী ২০২৫ সালে রোজা, দোলযাত্রা, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, শবে কদর ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে যেখানে ২৮ দিন ছুটি ছিল, সেখানে ২০২৬ সালে তা কমিয়ে ১৯ দিন করা হয়েছে। ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে ছুটি কমেছে তিন দিন এবং শীতকালীন ছুটি থেকেও এক দিন কমানো হয়েছে।
নতুন ছুটির তালিকা অনুযায়ী, একুশে ফেব্রুয়ারি, মে দিবস, সরস্বতী পূজা, শুভ মহালয়া, মধু পূর্ণিমাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিবসে বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে না। তবে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় বিদ্যালয়ে পালন করতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনি পরীক্ষা ২৯ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে নিতে হবে এবং ফল প্রকাশ করতে হবে ১৮ নভেম্বর। বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং ফল প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ১৫ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়ে একই দিনে ফল প্রকাশ করতে হবে।
এ ছাড়া প্রতি পরীক্ষার সময়সীমা ১২ কর্মদিবসের বেশি হবে না এবং বিদ্যালয়কে নিজস্ব প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেই পরীক্ষা নিতে হবে। কোনো বিশেষ কারণে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি নিতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন ছুটির তালিকা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও পাঠ্যসূচি সম্পন্নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।