ওসি-এসির সামনেই আটক ছিনতাইকারীকে মারধর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রীকে মারধর ও ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় এবার খোদ থানার ভেতরেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর শনাক্তের পর আটক সন্দেহভাজনকে মারধর করে থানা থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, বুধবার (৬ মে) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া হক জান্নাতী (২২) ও তার সহপাঠী মোছাঃ সাবরিনা জাহান (২৩) বৃষ্টির সময় মেহেরচন্ডী ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক যুবক সুমাইয়ার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে একটি রিকশা ঘটনাস্থলের দিকে আসতে দেখেই সে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুমাইয়া অসুস্থবোধ করলে তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ইবনে সিনা হাসপাতাল-এ সিটি স্ক্যান করান এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।
এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে মতিহার থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জামালপুর ওলি বাবার মাজার এলাকার রুবেলের ছেলে আসিক নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রী থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহপাঠী ও বন্ধু উত্তেজিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবীর ও সহকারী কমিশনার (এসি) মোঃ সোহেল রানাসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই আটক ব্যক্তিকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে থানার বাইরে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওসি গোলাম কবীরসহ দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে অভিযুক্তকে উদ্ধার করেন এবং পুনরায় ওসির কক্ষে নিয়ে যান।
ঘটনার পর থানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, থানার অভ্যন্তরে পুলিশের উপস্থিতিতেই আটক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য উদ্বেগজনক।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তবে থানার ভেতরে আটক ব্যক্তিকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে মতিহার থানার ওসি গোলাম কবীর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।