সনদ লঙ্ঘন করে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে
বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা রাখে না বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ থেকে সরকারকে নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষকে বিরোধী দল প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল সরকারের পতন নয়, বরং তাদের সফলতা কামনা করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় বসে বিএনপি সরকার গত সাত মাসে রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে ফেলেছে। বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা গ্রহণের সদিচ্ছাকে সরকার গ্রহণ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের আগপর্যন্ত বিএনপি মজলুম অবস্থানে থাকলেও ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তারা দ্রুত অতীত ইতিহাস ও অঙ্গীকার ভুলে গেছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। জামায়াত আমির দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি নিজের অবস্থান থেকে সরে গেলেও বিরোধী দল জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না।
প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দলীয় হস্তক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান নয় যে তারা ইচ্ছামতো এর সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করবেন। মেধার অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-জনতা রক্ত দিলেও সরকার পুনরায় দলবাজির মাধ্যমে পদায়নের চক্রান্ত করছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনগুলোকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রেখে কেবল সরকারি দলের আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়াকে তিনি রাষ্ট্রীয় অপরাধ ও চরম বৈষম্য বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই বৈষম্যমূলক ও বস্তাপচা রাজনীতির পুনরাবৃত্তির জন্য চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়নি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া। সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে এত দ্রুত সরকার পিছু হটবে, তা দেশবাসী কল্পনাও করেনি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দ্রুত এই সনদ কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারপ্রধান একাধিকবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যেকোনো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রধান রাজনৈতিক ও নৈতিক কর্তব্য।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ হলো রাষ্ট্র মেরামতের এক ঐতিহাসিক দলিল। বিএনপি ক্ষমতার ফলাফল পুরোপুরি ভোগ করলেও গণভোটের রায় নিয়ে সুবিধাবাদী ও দ্বৈত আচরণ করছে। জুলাই সনদের আলোকে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন না হলে জনগণ পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সনদ লঙ্ঘন করে বিএনপি পুরো জাতির সঙ্গে চরম প্রতারণামূলক আচরণ করেছে। রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সংস্কার পরিষদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ বিরোধী রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা সম্মিলিতভাবে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায়কে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে দেশে পুনরায় গভীর রাজনৈতিক সংকট অনিবার্য হয়ে উঠবে।