রুপালি পর্দা ছেড়ে দ্বীনের পথে খল অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের পর্দা কাঁপানো খল অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা রুপালি জগতের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে এখন পুরোদস্তুর ধর্মীয় অনুশাসন ও আধ্যাত্মিক জীবনযাপনে মনোনিবেশ করেছেন। অভিনয় থেকে অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে তিনি এখন স্থানীয় মসজিদের খেদমত ও ইসলামী জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার করা ছবি ও দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিশেষ ছবি শেয়ার করে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে নিজের বর্তমান জীবনের অনুভূতি ও ইসলামের বার্তা তুলে ধরেন এই অভিনেতা। ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে একটি স্থানীয় মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাঁদের মসজিদে নিয়মিতভাবে বিশেষ ইসলামী আলোচনার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রখ্যাত আলেম-ওলামারা পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন।
নিজের আধ্যাত্মিক চর্চার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইলিয়াস কোবরা বলেন, আলেমদের মূল্যবান এই আলোচনাগুলো থেকে তিনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ধর্মীয় বিষয় শিখছেন এবং নিজের দ্বীনি জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে মসজিদে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও নিজের ইতিবাচক উপলব্ধিগুলো ভাগ করে নিচ্ছেন।
জীবনদর্শন নিয়ে নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করে এই অভিনেতা জানান, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা, সেই শিক্ষাকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং তা অন্যের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো প্রতিটি সচেতন মুসলিমের নৈতিক দায়িত্ব। সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে দ্বীনের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন, তা যথাযথভাবে মেনে চলা এবং ইসলামের খেদমতে নিজেদের নিয়োজিত রাখার তৌফিক দান করেন।
নব্বইয়ের দশক ও পরবর্তী সময়ে মার্শাল আর্ট ও খলচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ইলিয়াস কোবরা। আলো ঝলমলে রূপালি জগৎ থেকে সরে এসে তাঁর এই ধর্মীয় অনুরাগ ও শান্তিময় জীবনযাপনের সিদ্ধান্তকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ নেটিজেনরা। অনেকেই তাঁর এমন ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দ্বীনি জীবনের স্থায়িত্ব কামনা করেছেন।