মিশাল মন্ডলকে জড়িয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
ফটোসাংবাদিক মিশাল মন্ডলকে ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’, ‘অস্ত্রধারী’ ও ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে কতিপয় নামসর্বস্ব অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মিশাল মন্ডল কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা কোন সন্ত্রাসী নন; বরং বিগত ৭–৮ মাস ধরে ভুল সঙ্গদোষে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই পরিবার স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েছিল।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন মিরেরচক এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিশাল মন্ডলের ছোট বোন। এ সময় তাঁর মা, স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে পরিবার জানায়, মিশাল মন্ডল (৪২) দীর্ঘ সময় ধরে দৈনিক উপচার, বাংলার জনপদ ও বরেন্দ্র টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে একজন পেশাদার ফটোসাংবাদিক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত ৭–৮ মাস ধরে তিনি বিপথগামী হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং পেশাগত দায়িত্বেও অনিয়মিত হয়ে পড়ায় পরিবারে চরম অশান্তি দেখা দেয়। পরিবারের একজন সদস্যকে এই সর্বনাশা পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে তাঁর ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা পুলিশ প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। পরিবারের দেওয়া প্রত্যক্ষ তথ্যের ভিত্তিতেই গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে নগরীর খুলিপাড়া এলাকা থেকে মাদক গ্রহণরত অবস্থায় মিশালসহ তিনজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২১ পিস ইয়াবাসহ তাঁদের আটক দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিপথগামী সন্তানকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের এমন একটি দায়িত্বশীল ও বেদনাদায়ক পুনর্বাসন প্রচেষ্টাকে পুঁজি করে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল জঘন্য হলুদ সাংবাদিকতায় লিপ্ত হয়েছে। প্রকৃত সত্য আড়াল করে মিশালকে রঙ চড়িয়ে ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ হিসেবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি সামাজিকভাবে পরিবারটিকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে মিশালের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তোলা সাধারণ ছবি নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
পরিবার আরও প্রকাশ করে, অতীতে সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফটো এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মিশালের সাধারণ ছবির হাতে পিস্তল বসিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল। সেই একই চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁর ও গোটা পরিবারের সামাজিক সম্মান নষ্ট করতে পুনরায় মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। পরিবার স্মরণ করিয়ে দেয়, বহু বছর আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কিছু মামলা ছাড়া বিগত কয়েক বছরে তাঁর নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই গণমাধ্যমে কাউকে ঢালাওভাবে ‘শীর্ষ অপরাধী’ হিসেবে উপস্থাপন করা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারকারী সকল ফেসবুক পেজ ও অনিবন্ধিত পোর্টালকে অবিলম্বে এসব বানোয়াট সংবাদ প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় পরিবারটি সাইবার সুরক্ষা আইন ও মানহানির ধারায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেয়। একই সঙ্গে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে প্রশাসন ও মূলধারার গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবার।