দুর্গাপুরে সারের দাবিতে বিসিআইসি ডিলারের গোডাউন ঘেরাও কৃষকদের
পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার না দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় এক বিসিআইসি সারের ডিলারের গোডাউন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার লাল মোহাম্মদ লালুর গোডাউনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কৃষক ও ডিলারের লোকজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ শুরু করা হয়।
স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, আমন ধান ও রবি মৌসুমের বিভিন্ন সবজি চাষের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গত পক্ষকাল ধরে নওপাড়া ইউনিয়নজুড়ে তীব্র সারসংকট দেখা দেয়। সোমবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা ডিলার লাল মোহাম্মদ লালুর গোডাউনে সার নিতে ভিড় জমান। তবে ডিলার কৃষকদের চাহিদামতো বস্তাভিত্তিক সার না দিয়ে মাত্র ৫ থেকে ১০ কেজি করে খুচরা সার দেওয়ার চেষ্টা করলে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা রূপ নেয় হাতাহাতি ও ধাওয়ায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা পুলিশ ও কৃষি বিভাগে খবর দেন। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের শান্ত করেন এবং সরকারি নিয়মানুযায়ী সার বিতরণের ব্যবস্থা করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার লাল মোহাম্মদ প্রতি মাসে সরকারিভাবে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের বরাদ্দ উত্তোলন করলেও স্থানীয় কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে তা দেন না। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দিনে কৃষকদের ৫-১০ কেজি করে দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাতের আঁধারে অধিক মুনাফার লোভে বাইরে কালোবাজারে সার পাচার করা হয়। নওপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আজিবর রহমান ও কৃষক মামুন আলী অভিযোগ করে বলেন, গোডাউনে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও তাদের জমিতে প্রয়োগের জন্য সার দেওয়া হচ্ছিল না। কৃষকেরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানালে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন এসে সার বিতরণ করাতে বাধ্য হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিসিআইসি ডিলার লাল মোহাম্মদ লালু। তিনি দাবি করেন, চলতি মাসের জন্য তিনি ৪ টন টিএসপি, ১২ টন ডিএপি ও ৫৫ টন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ পেয়েছেন এবং তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করছেন। জমি না থাকা সত্ত্বেও অনেকে দুই-তিন বস্তা করে সার একবারে মজুদের উদ্দেশ্যে নিতে চাইলে নিয়ম রক্ষার্থে খুচরা বণ্টন করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী জানান, হট্টগোলের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং কৃষকদের মাঝে সার বণ্টন নিশ্চিত করেছেন। ডিলারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কালোবাজারি বা অনিয়মের বিষয়ে কৃষকেরা লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসতুরা আমিনা বলেন, উপজেলায় সরকারিভাবে সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই এবং নিয়মিত বরাদ্দ অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। কোনো ডিলার যদি কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে কিংবা কৃষকদের হয়রানি করে, তবে তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।