রাজশাহীতে হোটেল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট অবিলম্বে কার্যকর, পূর্ণাঙ্গ শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজশাহীতে দফায় দফায় স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) ‘হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ, রাজশাহী জেলা কমিটি’র উদ্যোগে দিনব্যাপী এ ধারাবাহিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, দুপুর ১২টায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং দুপুর ১টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের সাধারণ শ্রমিকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ৫ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করা হলেও অধিকাংশ মালিকপক্ষ তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে। এছাড়া আইনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরির সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে, যার বিপরীতে ন্যায্য ওভারটাইম মজুরি দেওয়া হয় না।
নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণের কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানো নোটিশ বা আইনানুগ ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সামান্য মৌখিক আদেশে যখন-তখন শ্রমিকদের কর্মস্থল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অধিকারের দাবিতে সোচ্চার থাকা শ্রমিক নেতাদের দমন করতে অসত্য ও বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমজীবী মানুষের মৌলিক অধিকার ও কর্মপরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর তদারকি ও তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তাঁরা।