রাজশাহীতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, দ্রোহ ও মানবিক চেতনার জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজশাহী বাংলাদেশ শিশু একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে এ বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হারুন অর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জাতীয় কবির বহুমুখী প্রতিভা ও সামাজিক অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, নজরুল কেবল কবি ছিলেন না; তিনি একাধারে সুরকার, গীতিকার, নির্ভীক সাংবাদিক, সম্পাদক ও সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছেন। তাঁর সাহিত্য ও জীবনাদর্শের মূল কথাই ছিল সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রতিবাদ।
বর্তমান সমাজ বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের সমাজে অসহিষ্ণুতা, পরমতসহিষ্ণুতার সংকট, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাত, অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি ও মাদকের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা উদ্বেগজনক হারে বাড়িয়ে তুলছে। এই ভয়াবহ নেতিবাচক প্রবণতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে নজরুলের সাম্য ও মানবতার চেতনা ধারণ করা জরুরি। তিনি তরুণদের অতিরিক্ত মোবাইল নির্ভরতা পরিহার করে বই পড়া, সাহিত্যচর্চা ও নিয়মিত সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার জোর তাগিদ দেন। নজরুলের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ধর্মীয় ভেদাভেদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।