আবুল কালাম আযাদের বিলম্বিত আপিল গ্রহণযোগ্য কি না, আদেশ ৭ সেপ্টেম্বর
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আযাদের রায় ঘোষণার দীর্ঘ ৪ হাজার ৯১৫ দিন পর করা আপিল গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আদেশ দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ শেষে আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেন।
আদালতে আসামিপক্ষের বিলম্ব মার্জনার আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। অন্যদিকে রাষ্ট্র ও প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আপিল বিভাগ মূলত দীর্ঘ সময় পর আইনগতভাবে তাঁর এই বিলম্ব মার্জনা করে আপিল দায়েরের সুযোগ দেওয়া যায় কি না এবং আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত সাজার কার্যকারিতা স্থগিত রাখা যায় কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আসামি আবুল কালাম আযাদকে পলাতক থাকা অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এটিই ছিল প্রথম কোনো ঐতিহাসিক রায়। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
জানা গেছে, আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত আপিল দায়ের করার শর্তসাপেক্ষে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর সাজা সাময়িক স্থগিতের আবেদন মঞ্জুর হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁকে আপিল করার সুবিধার্থে মামলার যাবতীয় নথিপত্র সরবরাহের আদেশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিলম্ব মার্জনা চেয়ে আপিল দায়েরের পর এবার আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।