শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
হোমঅর্থনীতিরিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা

দেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যানবাহনের সম্প্রসারণ যখন সময়ের দাবি, ঠিক তখনই রিকন্ডিশন্ড বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন আমদানি নীতি আদেশে পুরোনো ইভি আমদানির অনুমতি বাতিল করায় চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের গাড়ি আমদানিকারকরা।

নতুন আমদানি নীতি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ি ও প্যাসেঞ্জার কার আমদানি করা গেলেও কোনোভাবেই পুরোনো বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাবে না। ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকা এই নির্দেশনার ফলে কাস্টমস ছাড়পত্র ও ব্যাংকে নতুন ঋণপত্র (এলসি) খোলার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে মানভেদে একটি ব্র্যান্ড নিউ বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম পড়ে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা বা তারও বেশি। বিপরীতে একই মানের একটি রিকন্ডিশন্ড ইভি ৫০ লাখ টাকারও কমে মিলত। দামের এই বিশাল পার্থক্যের কারণে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছে ব্যবহৃত ইভির আকর্ষণ তৈরি হচ্ছিল। আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) দাবির প্রেক্ষিতে গেল জুনে ঘোষিত বাজেটে পুরোনো ইভি আমদানির সুযোগ বহাল রাখা হয়েছিল। এতে উৎসাহিত হয়ে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ইভি আমদানির উদ্যোগ নেন এবং ব্যাংকে এলসি খোলেন। কিন্তু নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় তাদের সব হিসাব-নিকাশ উল্টে গেছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইভির চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। জাপান, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক দেশগুলো পাল্লা দিয়ে তৈরি করছে এসব গাড়ি। কার্বন নিঃসরণমুক্ত এই গাড়িগুলো একবার ফুল চার্জে ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে, যেখানে প্রতি কিলোমিটারে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় মাত্র ২ থেকে ৪ টাকা। শব্দহীন চলাচল এবং তুলনামূলক কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ব্যবহৃত ইভি আমদানিতে ঝুঁকছে।

বিশেষ করে জাপান থেকে ২০২৩ সালে রপ্তানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড ইভির ৬০ শতাংশই নিয়েছে রাশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশ। এছাড়াও শ্রীলঙ্কা, সাইপ্রাস, কেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ইভি আমদানি করছে। অন্যদিকে চীন ‘জিরো মাইলেজ’ ব্যবহৃত ইভি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বাজার সম্প্রসারণ করছে।

এর বিপরীতে বাংলাদেশের চিত্র একেবারেই বিপরীত। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই ইভি নিবন্ধনের সংখ্যা ১০০ স্পর্শ করতে পারেনি। যেখানে প্রচলিত জ্বালানির হাজার হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি নিয়মিত রাস্তায় নামছে, সেখানে উচ্চমূল্যের কারণে নতুন ইভির বাজার সম্প্রসারিত হতে পারছে না। এমন বাস্তবতায় রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির পথ রুদ্ধ হওয়ায় দেশের অটোমোবাইল খাতের সবুজ রূপান্তর বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৮ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
হোমঅর্থনীতিরিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা

দেশে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যানবাহনের সম্প্রসারণ যখন সময়ের দাবি, ঠিক তখনই রিকন্ডিশন্ড বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন আমদানি নীতি আদেশে পুরোনো ইভি আমদানির অনুমতি বাতিল করায় চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের গাড়ি আমদানিকারকরা।

নতুন আমদানি নীতি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পুরোনো প্রচলিত জ্বালানিচালিত গাড়ি ও প্যাসেঞ্জার কার আমদানি করা গেলেও কোনোভাবেই পুরোনো বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাবে না। ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকা এই নির্দেশনার ফলে কাস্টমস ছাড়পত্র ও ব্যাংকে নতুন ঋণপত্র (এলসি) খোলার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে মানভেদে একটি ব্র্যান্ড নিউ বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম পড়ে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা বা তারও বেশি। বিপরীতে একই মানের একটি রিকন্ডিশন্ড ইভি ৫০ লাখ টাকারও কমে মিলত। দামের এই বিশাল পার্থক্যের কারণে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছে ব্যবহৃত ইভির আকর্ষণ তৈরি হচ্ছিল। আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) দাবির প্রেক্ষিতে গেল জুনে ঘোষিত বাজেটে পুরোনো ইভি আমদানির সুযোগ বহাল রাখা হয়েছিল। এতে উৎসাহিত হয়ে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ইভি আমদানির উদ্যোগ নেন এবং ব্যাংকে এলসি খোলেন। কিন্তু নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় তাদের সব হিসাব-নিকাশ উল্টে গেছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ইভির চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। জাপান, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো শীর্ষস্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক দেশগুলো পাল্লা দিয়ে তৈরি করছে এসব গাড়ি। কার্বন নিঃসরণমুক্ত এই গাড়িগুলো একবার ফুল চার্জে ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে, যেখানে প্রতি কিলোমিটারে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় মাত্র ২ থেকে ৪ টাকা। শব্দহীন চলাচল এবং তুলনামূলক কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ব্যবহৃত ইভি আমদানিতে ঝুঁকছে।

বিশেষ করে জাপান থেকে ২০২৩ সালে রপ্তানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড ইভির ৬০ শতাংশই নিয়েছে রাশিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশ। এছাড়াও শ্রীলঙ্কা, সাইপ্রাস, কেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ইভি আমদানি করছে। অন্যদিকে চীন ‘জিরো মাইলেজ’ ব্যবহৃত ইভি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বাজার সম্প্রসারণ করছে।

এর বিপরীতে বাংলাদেশের চিত্র একেবারেই বিপরীত। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই ইভি নিবন্ধনের সংখ্যা ১০০ স্পর্শ করতে পারেনি। যেখানে প্রচলিত জ্বালানির হাজার হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি নিয়মিত রাস্তায় নামছে, সেখানে উচ্চমূল্যের কারণে নতুন ইভির বাজার সম্প্রসারিত হতে পারছে না। এমন বাস্তবতায় রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির পথ রুদ্ধ হওয়ায় দেশের অটোমোবাইল খাতের সবুজ রূপান্তর বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: বিপাকে গাড়ি ব্যবসায়ীরা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৮ আগস্ট ২০২৬