রাজশাহীতে আলুর হিমাগার ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি
বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার সঙ্গে হিমাগারের অস্বাভাবিক সংরক্ষণ ভাড়া যোগ হয়ে মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের আকাশচুম্বী ব্যয় মিটিয়ে যেখানে লোকসান ঠেকানোই কঠিন, সেখানে কোল্ড স্টোরেজের অযৌক্তিক ভাড়া সেই বোঝাকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা সুপারিশ কমিটির প্রস্তাবনা মেনে বস্তার নিট ওজন থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সর্বোচ্চ সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ ও তা অবিলম্বে কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি ও সদস্য মিঠু হাজীসহ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই বছর ধরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে গঠিত জেলা সুপারিশ কমিটি দেশের প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির ৮ নম্বর কলামে প্রতি বস্তা থেকে ৫ কেজি বাদ দিয়ে কেজিপ্রতি ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ টাকা এবং অন্যান্য জেলায় গড়ে ৫ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু হিমাগার মালিকদের একতরফা অনড় মনোভাব ও অসহযোগিতার কারণে তা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
সমাবেশে কৃষক ও ব্যবসায়ী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলে দেশের সিংহভাগ আলু উৎপাদিত হলেও কতিপয় হিমাগার মালিকদের যোগসাজশে অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কমিটির সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালানো হবে। আলু চাষিদের জীবিকা ও ভোক্তাদের স্থিতিশীল বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সংকট নিরসনের আহ্বান জানান তাঁরা।