সচিবালয়ের ছোট দফতরেই দাফতরিক কাজ সারছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তেজগাঁওয়ের সুপরিসর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ের সাধারণ দফতরে বসেই নিয়মিত দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিগত ১৭ বছরে দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। সভাটির আয়োজন করে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর অংশ)।
নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, প্রশাসনের সর্বস্তরে সমন্বয় বৃদ্ধি ও কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে না বসে সচিবালয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেই একটি সাধারণ কক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে সচিবদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দূরবর্তী কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল নয়টার মধ্যেই দফতরে উপস্থিত হচ্ছেন, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো সচিবালয়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মতৎপরতা বেড়েছে এবং সবাই সঠিক সময়ে দফতরে উপস্থিত হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী আকস্মিকভাবে বিভিন্ন দফতর পরিদর্শন করছেন।
প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকে দলীয় ও আঞ্চলিক বিবেচনায় পদায়ন এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কোণঠাসা করার মাধ্যমে গোটা প্রশাসনকে ভঙ্গুর করে ফেলা হয়েছিল। এমন অগোছালো প্রশাসনিক কাঠামো এবং সংকটাপন্ন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত জঞ্জাল দূর করে পুরো ব্যবস্থাকে নিয়মতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এ জন্য তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সরকারের নীতিগত অবস্থানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় সংকট উত্তরণে সরকার কোনো ধরনের অনমনীয় অবস্থানে নেই। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট ও গঠনমূলক মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্ররোচনা শান্তভাবে মোকাবিলা করে জনদুর্ভোগ লাঘব করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য, যা অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি।