সরকার গঠনের প্রথম ৬ মাসে ৪৬৪ অপতথ্য শনাক্ত
সরকার গঠনের প্রথম ছয় মাসে সরকার, এর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অনলাইনে ৪৬৪টি অপতথ্য বা ভুয়া খবর শনাক্ত করেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শনাক্ত হওয়া এসব অপতথ্যের প্রায় ৯১ শতাংশই তৈরি ও প্রচার করা হয়েছিল সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক বার্তা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপপ্রচারের প্রধান কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন সার্কাজম পেজের কনটেন্ট, গণমাধ্যমের লোগো ও বিন্যাস নকল করে বানানো ভুয়া ফটোকার্ড, মনগড়া বক্তব্য, পুরোনো ছবি ও ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার।
ব্যক্তিভিত্তিক অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তুতে শীর্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে ঘিরে মোট ১৫৭টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই ছিল স্পষ্টত নেতিবাচক। এর মধ্যে সার্কাজম পেজ থেকে আসা ৩৪টি এবং তাঁর নামে ছড়ানো ৩০টি ভুয়া বক্তব্য অন্যতম। এ ছাড়া গণমাধ্যমের আদলে ২২টি নকল ফটোকার্ড ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ১৯টি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের ঘিরে ২৬২টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়, যার ৯৯ শতাংশই নেতিবাচক। মন্ত্রীদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ঘিরে সর্বোচ্চ ৪৮টি, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ঘিরে ৩৩টি এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে ২৬টি অপতথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ঘিরে ২৩টি, রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে ১৬টি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ঘিরে ১৫টি অপতথ্য শনাক্ত হয়।
সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে মোট ৩০৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে ঘিরে সর্বোচ্চ ৫৮টি এবং দলীয় মোট ১১৬টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যদের ঘিরে ১২৪টি অপতথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে ৫৯টি ও নাহিদ ইসলামকে নিয়ে ২৭টি অপতথ্য রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে ফজলুর রহমানকে ঘিরে সর্বোচ্চ ১৬টি অপতথ্য ছিল। এ ছাড়া নারী নেত্রী ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে রুমিন ফারহানাকে ঘিরে সর্বোচ্চ ২২টি অপতথ্য শনাক্ত হয়।
ইস্যুভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি ভুয়া খবর ছড়িয়েছে জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে, যা সংখ্যায় মোট ৫৮টি। এর পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে ৪৫টি, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিওকে কেন্দ্র করে ৪২টি এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ৪১টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের মতে, সরকারের প্রথম ছয় মাসে কেবল রাজনৈতিক চরিত্রই নয়, বরং শিক্ষা, জ্বালানি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল বিষয়গুলোকেও পরিকল্পিত অপপ্রচারের হাতিয়ার করা হয়েছে।