বিভেদ ও প্রতিহিংসা জাতিকে শক্তিশালী করে না: বায়তুল মোকাররমে সিরাতুন্নবী মাহফিল
বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপ্রবণতা কখনো কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সমাজে যেন আর কখনো কোনো কর্তৃত্ববাদ কিংবা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলা হয়।
বক্তব্যে ধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করে মহানবী (সা.) যে শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা জাতীয় জীবনেও চির অনুসরণীয়। সেই শিক্ষাকে পাথেয় করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন।
জাতীয় জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশে নেওয়া পূর্ববর্তী নানা উদ্যোগের কথা স্মরণ করে বলা হয়, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা হয়েছিল।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জানানো হয়, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্যও মাসিক সম্মানী ভাতা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২০৩০ সালের আগেই দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয়কে এই সরকারি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সত্য, ন্যায় ও মানবতার বাণী প্রচারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, গুজব, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূলে ধর্মীয় নেতাদের সোচ্চার ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।