রাজশাহীতে কারিনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে হালিমার মর্মান্তিক আত্মহত্যা
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সামান্য অভিমান আর হতাশা কেড়ে নিল দুটি তাজা প্রাণ। সোমবার (১০ আগস্ট) কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস ও বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় উভয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলো—রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের কাঞ্চন কুমার পালের মেয়ে কারিনা পাল (১৬) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পুরাতন উনিশবিঘী গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে হালিমা খাতুন তরিকা (১৬)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কারিনা পাল স্থানীয় চাঁন্দেরআড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সোমবার প্রকাশিত ফলে সে জানতে পারে, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে তার ফলাফল খারাপ হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে সে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলে নিজ ঘরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মায়ের শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে চাকপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী হালিমা খাতুন তরিকা সব বিষয়ে পাস করলেও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এই ব্যর্থতা মেনে নিতে না পেরে সে হতাশ হয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, এসএসসির ফলাফলে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার জেরে ওই শিক্ষার্থী বিষপান করে মারা গেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরীক্ষার ফল জীবনের সব কিছু নির্ধারণ করে না। সামান্য একটি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের এমন চরম পথ বেছে নেওয়া রোধে পরিবার ও সমাজের আরও বেশি সচেতন হওয়া এবং কোমলমতি কিশোর-কিশোরীদের মানসিক কাউন্সেলিং বাড়ানো জরুরি।