কাটা হাত নিয়ে থানায় স্বামী, গ্রেপ্তার ২
পারিবারিক মারাত্মক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে রাজশাহীর মোহনপুরে ফাহিমা (৪২) নামের এক গৃহবধূর ডান হাতের কব্জি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। নিজ স্বামীর দুলাভাই জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। নৃশংস এই ঘটনার পর অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিরে স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন কব্জি হাতে নিয়ে সরাসরি মোহনপুর থানায় হাজির হন ভুক্তভোগীর স্বামী শরিফুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের করিশা গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে শরিফুল ইসলামের পরিবারের সাথে একই গ্রামের মৃত মাইনুল ইসলামের ছেলে এবং তাঁর দুলাভাই জালাল উদ্দিনের বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় সেই শত্রুতার জেরে জালাল ধারালো চাপাতি নিয়ে ফাহিমার ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে কোপ লেগে ফাহিমার ডান হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। রক্তাক্ত ও মারাত্মক আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ফাহিমাকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
পরদিন রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে আহতের স্বামী শরিফুল ইসলাম স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন হওয়া কব্জিটি একটি পাত্রে করে নিয়ে মোহনপুর থানায় গিয়ে হাজির হন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আকুতি জানান। কাটা হাত নিয়ে থানায় উপস্থিত হওয়ার ঘটনাটি থানা প্রাঙ্গণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এ মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত তৎপর হয় পুলিশ। রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আকতার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে হামলায় সরাসরি জড়িত প্রধান অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ও তার সহযোগী রবিউলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই হামলায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন এবং গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।