এ্যাঞ্জেলস গার্ডেনে শিশুদের নিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
প্রতিবন্ধি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ্যাঞ্জেলস গার্ডেন এসকল শিশুদের নিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) উঠান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে আনন্দঘন পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে এ্যাঞ্জেলস গার্ডেনের শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উঠান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এর উপদেষ্টা তরিকুল আলম মাস্টার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ্যাঞ্জেলস গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. আনোয়ার জাহিদ রুবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, সংগঠক ও সমাজকর্মী ফয়সাল আজম অপু।
আরও উপস্থিত ছিলেন উঠান এর সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু, লালবর্ণ স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোসা. রেহানা পারভিন, এ্যাঞ্জেলস গার্ডেনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম এবং ডিসি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী হাসনাত।
অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন উঠান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. আব্দুস সামাদ (বাবু)। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উঠান এর সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক, লেখক, সংগঠক ও সমাজকর্মী মো. ফয়সাল আজম অপু বলেন, “আজকের দিনটি শুধু খেলাধুলা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দিন নয়; এটি শিশুদের প্রতিভা বিকাশ, আনন্দ ভাগাভাগি এবং আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করার দিন।”
তিনি বলেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ ও মানসিক প্রফুল্লতা তৈরি করে। অন্যদিকে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা শিশুদের মননশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, ক্রীড়াবিদ ও দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মানুষ তৈরি হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য চাপ না দিয়ে তাদের স্বপ্ন ও প্রতিভাকে মূল্য দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
সভাপতি আনোয়ার জাহিদ শিশুদের উদ্দেশে বলেন, “জীবনে প্রতিযোগিতা থাকবে। কেউ প্রথম হবে, কেউ দ্বিতীয় হবে, আবার কেউ হয়তো পুরস্কার পাবে না। কিন্তু পুরস্কার পাওয়াই বড় কথা নয়, নিজের সেরাটা দেওয়াই সবচেয়ে বড় সাফল্য। জয়ী হলে বিনয়ী হতে হবে, আর পরাজিত হলে হতাশ না হয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।”
সভাপতি তরিকুল আলম বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ, আনন্দময় ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন প্রতিবছর আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন, গজল ও স্বরচিত কবিতা পাঠসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ছেলেদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সবুজ, দ্বিতীয় ইমন এবং তৃতীয় রিফাত। মেয়েদের গজল প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় রজনী, দ্বিতীয় জামিলা এবং তৃতীয় মরিওম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে মোসা. ফাতেমা বেগম স্বরচিত কবিতা পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও সেবিকাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। লালবর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী ফারজানা-কেও অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা বলেন, শিশুদের সুস্থ বিনোদন, প্রতিভা বিকাশ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতেই এ ধরনের আয়োজন। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
শেষে শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্থতা ও সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।