রামেক হাসপাতালে অনুমতি ছাড়াই তার চুরির অভিযোগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে কোনো ধরনের দাপ্তরিক অনুমতি বা কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ পুরোনো বৈদ্যুতিক তার অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের সন্দেহ ও প্রতিবাদের মুখে ওই ঠিকাদার ঘটনাস্থলে নিজের মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে পুলিশ গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই বাইকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটলেও আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
পলাতক অভিযুক্ত ঠিকাদারের নাম রবিউল ইসলাম মুন্না। রাজশাহী মহানগরীর মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মুন্না পেশায় মূলত একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নামে ইস্যুকৃত ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে আসছেন। এই ঘটনার পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বর্তমানে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি রামেক হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার পরিবর্তনের কাজ চলমান ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে বিপুল পরিমাণ পুরোনো তারবোঝাই একটি ভ্যান হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে সামান্য ধাক্কা খায়। এই আকস্মিক ঘটনায় গাড়িটির চালক ও ঠিকাদার মো. ময়নার সন্দেহ হয় এবং তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মো. ময়না জানান, আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে, ভ্যানে বোঝাই করা অত্যন্ত মূল্যবান এই তারগুলো গোপনে ঠিকাদার রবিউল ইসলাম মুন্নার বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গণপূর্ত বিভাগ-২-এর হাসপাতাল শাখার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিনা মো. মাসুমকে মোবাইল ফোনে বিস্তারিত অবহিত করেন।
ময়না আরও জানান, খবর পেয়ে ঠিকাদার মুন্না দ্রুত মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ছুটে এলেও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ও স্থানীয়দের চাপের মুখে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে দ্রুত চম্পট দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। তবে উপসহকারী প্রকৌশলীর বারবার ফোনকল পাওয়ার পর ঠিকাদার মুন্নার লোকজন তড়িঘড়ি করে একটি ভ্যানে করে সামান্য কিছু তার রামেক হাসপাতাল চত্বরে ফেরত পাঠান।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ভ্যানে করে যে পরিমাণ বিপুল পরিমাণ পুরোনো তার অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তার অতি সামান্য একটি অংশমাত্র ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অন্তত পাঁচ লাখ টাকারও অধিক মূল্যের পুরোনো বৈদ্যুতিক তার হাসপাতাল চত্বর থেকে পাচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ-২-এর উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিনা মো. মাসুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বুধবার হাসপাতালের এসি লাইনে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকার নতুন বৈদ্যুতিক তার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু জরুরি কাজের কারণে তিনি কিছুটা ব্যস্ত থাকায় সেই সুযোগে অত্যন্ত সুকৌশলে পুরোনো তারগুলো হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু তার উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ঠিকাদারের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি পুলিশ জব্দ করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, হাসপাতাল চত্বর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও চত্বর থেকে মাঝেমধ্যেই নানা ধরনের চুরির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে। তবে পুরোনো বৈদ্যুতিক তার চুরির বা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগটি তার জানা ছিল না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।