বাড়ির উঠান থেকে অটোরিকশাচালকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় নিজ বাড়ির উঠানের দরজা থেকে কামাল হোসেন (৩৫) নামের এক অটোরিকশাচালকের গলাকাটা বা ক্ষতচিহ্নযুক্ত নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে রসুলপুর ইউনিয়নের মুন্দিখৈর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কামাল হোসেন ওই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে অটোরিকশাটিসহ মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত কামাল হোসেন প্রতিদিনের মতো গত বুধবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সারাদিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় তিনি বাড়িতে ফেরেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়ে তিনি নিকটবর্তী ভেরেন্ডী বাজারে যাওয়ার কথা বলে পুনরায় বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘক্ষণ তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা শুরু হয়।
নিহতের স্ত্রী সামিয়ারা জানান, স্বামীর খোঁজ নিতে রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি কামালের মুঠোফোনে কল করেন এবং এটাই ছিল স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা। এরপর রাত এগারোটার দিকে স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে তিনি চিন্তিত হয়ে বাড়ির মূল দরজা খুলে উঠানে বের হন। এ সময় তিনি দেখতে পান, তাদের আয়-উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম অটোরিকশাটির পাশে স্বামীর নিথর দেহ পড়ে রয়েছে এবং তার গলায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। আকস্মিক এই দৃশ্য দেখে তিনি হতবিহবল হয়ে চিৎকার শুরু করলে রাতের অন্ধকার ভেদ করে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।