নওগাঁর ধামইরহাট সীমান্ত থেকে নিখোঁজ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী উদ্ধার
নওগাঁর ধামইরহাটে নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া শিশু মিমের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী থেকে প্রায় শতাধিক কিলোমিটার দূরে ধামইরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া ও শারীরিক চিকিৎসা শেষে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিম নওগাঁ সদর উপজেলার সুলতানপুর (আলুপট্টি) এলাকার মরহুম সোহেল রানার মেয়ে। সে মায়ের সঙ্গে বর্তমানে রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার ভবানীগঞ্জ এলাকার বলিশিং বাজার সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাস করত এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিশুটির মা মৌসুমী বেগম জানান, গত শুক্রবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম ভাঙার পর দেখতে পান মিম ঘরে নেই। আত্মীয়-স্বজন ও আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে হতাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে তিনি লক্ষ্য করেন, মিমের কিছু জামাকাপড় এবং মোবাইল ফোনের কভারে লুকিয়ে রাখা কিছু নগদ অর্থও উধাও। মায়ের দাবি, এর আগেও একবার শিশুটি একইভাবে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল।
এদিকে, রোববার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধামইরহাট থানা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মিমকে উদ্ধারের সুসংবাদ পান তার পরিবার। পরদিন সোমবার সকালে থানায় উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর পুলিশ তাকে মায়ের জিম্মায় তুলে দেয়। মেয়েকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মৌসুমী বেগম।
ধামইরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, উপজেলার উমার ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চন্ডি স্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি শিশুটিকে একা ঘোরাঘুরি করতে দেখে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর পাঠান।
তিনি আরও জানান, শিশুটির উদ্ধারের বিষয়টি জানার পর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের বিশেষ নির্দেশনায় তাকে নিরাপদে থানা হেফাজতে আনা হয়। থানায় পৌঁছানোর পর তার শারীরিক পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় তার পরিবারের সঠিক ঠিকানা উদঘাটন করা সম্ভব হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার দুপুরে পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। তবে রাজশাহী থেকে শিশুটি একা কীভাবে ধামইরহাটের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসে পৌঁছাল, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।