অনুমতি দিয়েও কেন বাতিল হলো উদীচীর সাংস্কৃতিক সমাবেশ?
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর (একাংশ) আয়োজিত সাংস্কৃতিক সমাবেশের জন্য পূর্বে দেওয়া অনুমতি শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। তবে অনুমতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ৩১ জুলাই (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ শীর্ষক একটি সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যে গত ২২ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সংলগ্ন এলাকা ৩১ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমোদন দেওয়ার পর উদীচী কর্মসূচির পোস্টার ও প্রচারণাও শুরু করে।
তবে অনুষ্ঠানের মাত্র তিন দিন আগে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে সেই অনুমতি বাতিল করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত’ ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। যদিও ওই ‘অনিবার্য কারণ’ কী, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
একই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চাইলে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থান খালি থাকা সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতির বিষয়টি বিবেচনা করবে।
অনুমতি বাতিলের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর (একাংশ)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপনের দাবি, রাজনৈতিক চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার অভিযোগ, একই দিনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অন্য একটি সংগঠনের কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জামসেদ আনোয়ার তপনের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের আগে সংশ্লিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের নেতারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে উদীচীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং কর্মসূচির প্রচারণাও শুরু হয়েছে। এরপরই পূর্বে দেওয়া অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে বলে তার দাবি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের বৈধভাবে প্রাপ্ত অনুমতি প্রত্যাহার শুধু উদীচীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণই নয়, এটি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা ও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক বার্তা বহন করে। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পুনর্বহালের দাবি জানান।
তবে উদীচীর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে অনুমতি বাতিলের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ফলে পূর্বে অনুমোদিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুমতি শেষ মুহূর্তে কেন বাতিল করা হলো, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।