ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহীতে ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা, হুমকি, মিথ্যা মামলা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক পক্ষপাতমূলক মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ নাসির উদ্দিন। তিনি কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, ২০২৩ সালের জুন মাসে তিনিসহ আরও কয়েকজন অংশীদার মিলে বাবলু চন্দ্র ঘোষের কাছ থেকে বায়না দলিল মূলে এবং পরবর্তীতে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রেজিষ্ট্রি দলিল (দলিল নং- ৫৭৭৬) মূলে হড়গ্রাম মৌজার আর.এস ৮০৭ খতিয়ানের ২৩৪৩ দাগের জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর তিনি নিজ নামে নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন করেন এবং সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স চালু করে সেখানে আধা-পাকা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবারসহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, তিনি জমি ভোগদখল করা অবস্থায় তাঁর প্রতিবেশী মোঃ মোস্তফা আলী (পিতা- মসির উদ্দিন মোল্লা) অন্যায়ভাবে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা চালান। এতে ব্যর্থ হয়ে মোস্তফা আলী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (মেট্রোপলিটন) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী জানান, মামলা চলাকালীন আদালত জমিটির দখল বিষয়ে সরজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড মোঃ আরিফ হোসেনকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন সরজমিনে এসে প্রকৃত সত্য যাচাই না করে, বিবাদী মোস্তফা আলী দ্বারা প্রভাবিত হন।
নাসির উদ্দিন বলেন, মোস্তফা আলী কোনোদিনই ওই জমিতে বা আমার নির্মিত আধা-পাকা বাড়িতে দখলে ছিলেন না। অথচ এসি ল্যান্ড মোঃ আরিফ হোসেন তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, মোস্তফা আলী ২ মাস ধরে সেখানে দখলে ছিলেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ভুক্তভোগী আরও জানান, গত ২০ মে (২০২৬) আদালতে শুনানির সময় মোস্তফা আলীর পক্ষে জমির দখলের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা সাক্ষী ছিল না। কিন্তু সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফ হোসেনের দেওয়া ওই পক্ষপাতমূলক ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মাননীয় আদালত রায় প্রকাশ করেন। এর ফলে প্রকৃত জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি চরম অন্যায় ও অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন ও তাঁর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও জমি হারানোর শঙ্কায় ভুগছেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, ঘটনার পুনরায় তদন্ত এবং মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফ হোসেনসহ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা আলি বলেন প্রায় ১বছর ধরে এই মামলা চলার পরে রায় আমাদের পক্ষে, তার আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, অভিযোগ কারীর আগেই গত বছর আমি এই জমি ক্রয় করেছি।
তবে দলিল বলছে ভিন্ন কথা দেখা যায় ২০২৩ শালের ৮ই মে নাসির সহ আরো ৫জন বাইনামা দলিল রেজিস্ট্রি করেন।
এই বিষয়ে রাখি বোয়ালিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমি আরিফ হোসেনের ০১৭০৯-------২৯ মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
এই বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত মো: আবু বক্কর সিদ্দিক জানান এই বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।