রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঘটনার নতুন মোড়
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি বিশৃঙ্খল ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রাথমিকভাবে একপক্ষীয় তথ্য এলেও, ঘটনার গভীর পর্যবেক্ষণে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম অসহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক আক্রমণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কলেজের অফিস কক্ষের ভেতরে হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত বিতণ্ডার এক পর্যায়ে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে প্রথমে এক ব্যক্তিকে চ*ড় মা*রে*ন। পরবর্তীতে সেই ঘটনার জের ধরে ওই ব্যক্তিও অত্যন্ত অসংযত ও উগ্র আচরণ করেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর অন্য একটি অংশে দেখা যায়, অফিস কক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে সেই সংঘাত কলেজের মাঠ পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেখানে ওই নারী শিক্ষককে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ওই ব্যক্তিকে আঘাত করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন ছিল যে অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা বিবাদ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। ঘটনার পর রাজনৈতিক তকমা দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হলেও, ফুটেজে ফুটে ওঠা বাস্তবতায় দুই পক্ষেরই আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছেন, গণমাধ্যমে কেবল একটি পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও প্রকৃত সত্য ভিন্ন হতে পারে। একজন শিক্ষক হিসেবে যেমন ধৈর্য ও আদর্শ বজায় রাখা জরুরি, তেমনি স্থানীয় ব্যক্তিদেরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আবশ্যক। একে অপরকে শারীরিকভাবে আঘাত করার এই সংস্কৃতি সুস্থ সমাজের অন্তরায়।
কোনো ঘটনার খণ্ডিত অংশ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সঠিক নয়। যদি শিক্ষক প্রথমে আক্রমণ করে থাকেন, তবে সেটি যেমন পেশাগত আচরণের পরিপন্থী, তেমনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির শারীরিক আক্রমণ বা লা*ঞ্ছ*নাও সমানভাবে অপরাধ। গণমাধ্যমের উচিত নিরপেক্ষভাবে পুরো ঘটনার সত্যতা তুলে ধরা। এই ঘটনায় কেবল একজনের দায় না খুঁজে, কেন এবং কার মাধ্যমে এই সহিংসতার সূত্রপাত হলো—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দুর্গাপুরে শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তির হা*তা*হা*তির ঘটনায় উভয় পক্ষের দায় নিয়ে প্রশ্ন; ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাধারণ মানুষের।
বিশেষ বার্তা: সত্যকে আড়াল করে একপক্ষীয় বিচার কখনো টেকসই সমাধান আনে না। যে কোনো সংঘাতে উভয় পক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সহিংসতার ঊর্ধ্বে উঠে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত হোক। আবেগ নয়, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সত্য প্রকাশিত হোক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীল সমাজ গড়ি।