পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইয়াবা বাণিজ্যের অভিযোগে তোলপাড়
আইনের রক্ষক নাকি ভঙ্গকারী?
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বেলপুকুর থানায় কর্মরত এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে ঘিরে বেলপুকুর ও চারঘাট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক অভিযোগে জানা যায়, বেলপুকুর থানার কনস্টেবল রাজিব কুমার কথিত মাদক ব্যবসায়ী রানা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ইয়াবা বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছেন। চারঘাট থানার সারদা পুলিশ একাডেমি সংলগ্ন এলাকাকে এই চক্রের অন্যতম কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এই কার্যক্রম চললেও সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এক ঘটনায় ১০০ পিস ইয়াবা সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৪০ পিস দেওয়া হয় এবং বাকি অংশ পরে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া কিছু সূত্র দাবি করেছে, অভিযুক্তরা নিজেরাও ইয়াবা ও ফেনসিডিল সেবনের সঙ্গে জড়িত। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের পারিবারিক ও স্থানীয় প্রভাব রয়েছে। তার বাড়ি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া এলাকায়। তার বাবা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরিকালীন সময়ে চারঘাট এলাকায় বসবাস করতেন। বর্তমানে অভিযুক্তও ওই এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চারঘাটের সারদা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে।
এত গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
আইন ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে, অভিযুক্ত কনস্টেবল রাজিব কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট জবাব দেননি। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি আত্মহানির হুমকি দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ফাঁসানোর কথাও উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্য বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সচেতন মহলের মতে, আইনের রক্ষক হিসেবে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যখন মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তখন তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়, বরং পুরো সমাজ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, অভিযোগ সংক্রান্ত অডিও ও ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। বিষয়টির পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে।