আরডিএ’র নোটিশ অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন বাজে কাজলা এলাকায় অনুমোদিত নকশা ও আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধের নির্দেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) সূত্রে জানা গেছে, কাজলা মৌজার আরএস ২২৯০ ও ২২৯২ দাগে নির্মাণাধীন ভবনটির কোনো অনুমোদিত নকশা নেই। আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২-এর ৩(খ) ধারা অনুযায়ী উক্ত নির্মাণকাজ অবৈধ। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়—কেন স্থাপনাটি অপসারণ করা হবে না। পাশাপাশি ৩(খ)(২) ধারা অনুযায়ী পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও জানানো হয়, আগামী ১৬ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১টায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, নোটিশের পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাজে কাজলার মৃত খলিলুর রহমানের মেয়ে লিপি (৪১) প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপটে তিনি প্রশাসনিক নির্দেশকে উপেক্ষা করছেন। অভিযোগকারীর ভাষ্য, আরডিএ থেকে নোটিশ দেওয়ার পর বিষয়টি থানাকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর হস্তক্ষেপ না থাকায় আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপ না থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে আরডিএ’র অথরাইজড অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, আইন অনুযায়ী নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং বিবাদীকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মতিহার থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, মতিহার থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে-নোটিশ জারির পরও কেন কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হতে পারে।