নির্বাচনী দ্বন্দ্বের রেশ কাটেনি, পুঠিয়ায় সংঘর্ষে আহত একজন
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত আহসান হাবীব বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল)-এর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর অভিযোগ, ওই কারণে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন।
রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আহসান হাবীবের ডান হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ করা রয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিড়ালদহ বাজারে কেনাকাটা করার সময় একই গ্রামের রশিদসহ ১৫–১৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁরা ‘ঘোড়া’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রশিদের নির্দেশে রাসেল নামের এক ব্যক্তি লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। আত্মরক্ষার্থে হাত তুলে আঘাত ঠেকাতে গেলে তাঁর ডান হাতের দুটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে আরও কয়েকজন লোহার রড, লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি পাশের একটি চালের দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর অব্যাহত রাখেন।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে সরাসরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান তিনি।
অভিযুক্তদের একজন রাসেলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।
তিনি সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষে এবং এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি তিনি শুনেছেন; তবে এখনো পর্যন্ত থানায় এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।