শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়
স্বাধীনতার নীরবতা

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়
মো: নুরে ইসলাম মিলন। সভাপতি,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,রাজশাহী বিভাগ।


একটি রাষ্ট্রকে চেনা যায় সে তার সমালোচনাকে কীভাবে সহ্য করে-এই পুরোনো কথাটি আজ আবার নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একের পর এক সাংবাদিককে গ্রেফতার, রিমান্ডে নেওয়া ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেফতার এবং তার আগে-পরে শওকত মাহমুদ, মেহেদী হাসানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা সেই উদ্বেগকে আর গোপন রাখার সুযোগ দেয় না।

সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল মূলত জঙ্গিবাদ, সহিংস উগ্রবাদ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র ষড়যন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য বিপজ্জনক অপরাধ দমনের জন্য। আইনটির প্রেক্ষাপট আমাদের জানায়-এর জন্ম হয়েছিল বোমা হামলা, বিস্ফোরণ এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাস মোকাবিলার প্রয়োজন থেকে।

কিন্তু আজ, সেই একই আইন প্রয়োগ হচ্ছে টকশোর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, মতামত প্রকাশ এবং সাংবাদিকতার পেশাগত কাজের ওপর। যারা দেশের জন্য তথ্য পৌঁছে দেয়, জনগণের জানার অধিকার রক্ষা করে, এবং সরকারের কর্মকাণ্ড প্রশ্ন করে-তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো-এটি কি আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? কি টকশো বা সাংবাদিকতা কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে গণ্য হতে পারে? যদি না হয়, তাহলে কি আমরা নিশ্চয়ভাবে বলতে পারি যে, রাষ্ট্র আজ সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানাচ্ছে?

এটি শুধু ব্যক্তিগত কোনো দমন নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার এবং এক পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর সংকেত। আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রশ্নগুলো প্রকাশ করা, সচেতন থাকা এবং নিশ্চিত করা যে, কলমের স্বাধীনতা আর রাষ্ট্রীয় হুমকির মুখে নিগৃহীত হবে না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, মত প্রকাশের কারণে কাউকে নিশানা করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তাদের বক্তব্য নতুন নয়; বরং এটি বৈশ্বিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরই পুনরুক্তি। কারণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। এই অধিকার ক্ষুণ্ন হলে গণতন্ত্র কেবল নামেই টিকে থাকে।

আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দিকে তাকালে আরও বড় প্রশ্ন উঠে আসে। টকশোতে বলা বক্তব্যকে ‘উসকানি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ তিনি আদালতেই বলেছেন—তিনি উদাহরণ হিসেবে কথা বলেছেন, সতর্ক করেছেন, উসকে দেননি। একজন সাংবাদিকের কাজই হলো ক্ষমতার ভাষা, ক্ষমতার সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য পরিণতি বিশ্লেষণ করা। যদি সতর্ক করা, প্রশ্ন তোলা বা বিশ্লেষণ করাই সন্ত্রাসে উসকানি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সাংবাদিকতা আর অপরাধের মাঝখানের রেখাটি কোথায়?

আরও উদ্বেগজনক হলো-এই মামলাগুলোর প্রক্রিয়া। ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, মামলা ‘কোন ধারায় দেওয়া হবে’ তা নিয়ে ভাবা, তারপর জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা-এসব দৃশ্য অতীতের দমনমূলক অধ্যায়গুলোকেই মনে করিয়ে দেয়। যেসব অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন দেখেছিল দেশ।

শুধু আনিস আলমগীর নন, শওকত মাহমুদ, মঞ্জুরুল আলম পান্না, মেহেদী হাসান-এই নামগুলো মিলিয়ে একটি প্রবণতার ছবি স্পষ্ট হয়। অভিযোগ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আইন এক, পদ্ধতি এক, বার্তা এক-ভিন্নমত নিরাপদ নয়। আজ যদি সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়, আগামীকাল সেই তালিকায় কারা যুক্ত হবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে-“সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আর ফিরবে না”-এটি নিছক আবেগ নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা ভয়। এক সরকারের আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, আরেক সরকারের আমলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন-আইনের নাম বদলায়, উদ্দেশ্য বদলায় না।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি হলো-কথারও সীমা থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জরুরি। কিন্তু দায়িত্বশীলতার সংজ্ঞা কে দেবে? রাষ্ট্র নিজেই যদি সমালোচনার বিচারক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ন্যায়বিচার অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, ক্ষমতা কখনোই নিজেকে নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারে না।

সবচেয়ে ভয়াবহ ইঙ্গিতটি এসেছে ডিটেনশন ও রিমান্ড সংস্কৃতির পুনরুত্থান থেকে। বিনা বিচারে আটক, দীর্ঘ রিমান্ড, জামিনের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা-এসব একটি রাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাসের নয়, বরং ভয় ও অনিশ্চয়তার লক্ষণ। শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রশ্নে ভয় পায় না; দুর্বল রাষ্ট্রই প্রশ্নকে অপরাধে পরিণত করে।

এই সম্পাদকীয় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়। এটি সাংবাদিকতার পক্ষে, নাগরিক অধিকারের পক্ষে, সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। আজ সাংবাদিকরা যদি সন্ত্রাসী আইনের আসামি হন, কাল সত্য বলা নিজেই অপরাধে পরিণত হবে।

রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে-সাংবাদিকতা দমন করে স্থিতিশীলতা আসে না। আসে নীরবতা, আর সেই নীরবতার নিচেই জন্ম নেয় প্রকৃত অস্থিরতা। সন্ত্রাসবিরোধী আইন যদি সত্যিই সন্ত্রাস দমনের জন্য হয়, তবে তাকে সন্ত্রাসের সংজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হোক। কলমকে বোমা বানানোর এই বিপজ্জনক প্রবণতা থেকে রাষ্ট্র যত দ্রুত সরে আসবে, ততই মঙ্গল।

কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-যে রাষ্ট্র তার সাংবাদিকদের ভয় পায়, সে রাষ্ট্র আসলে সত্যকেই ভয় পায়।

লেখক:-

মো: নুরে ইসলাম মিলন

  • যুগ্ম-সম্পাদক,দৈনিক উপচার।
  • যুগ্ম-সম্পাদক,রাজশাহী প্রেসক্লাব।
  • সভাপতি,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,রাজশাহী  বিভাগ।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়
স্বাধীনতার নীরবতা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২২ ডিসেম্বর ২০২৫
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়
স্বাধীনতার নীরবতা

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়
মো: নুরে ইসলাম মিলন। সভাপতি,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,রাজশাহী বিভাগ।


একটি রাষ্ট্রকে চেনা যায় সে তার সমালোচনাকে কীভাবে সহ্য করে-এই পুরোনো কথাটি আজ আবার নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একের পর এক সাংবাদিককে গ্রেফতার, রিমান্ডে নেওয়া ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনা বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরের গ্রেফতার এবং তার আগে-পরে শওকত মাহমুদ, মেহেদী হাসানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা সেই উদ্বেগকে আর গোপন রাখার সুযোগ দেয় না।

সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল মূলত জঙ্গিবাদ, সহিংস উগ্রবাদ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র ষড়যন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য বিপজ্জনক অপরাধ দমনের জন্য। আইনটির প্রেক্ষাপট আমাদের জানায়-এর জন্ম হয়েছিল বোমা হামলা, বিস্ফোরণ এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাস মোকাবিলার প্রয়োজন থেকে।

কিন্তু আজ, সেই একই আইন প্রয়োগ হচ্ছে টকশোর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, মতামত প্রকাশ এবং সাংবাদিকতার পেশাগত কাজের ওপর। যারা দেশের জন্য তথ্য পৌঁছে দেয়, জনগণের জানার অধিকার রক্ষা করে, এবং সরকারের কর্মকাণ্ড প্রশ্ন করে-তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো-এটি কি আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? কি টকশো বা সাংবাদিকতা কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে গণ্য হতে পারে? যদি না হয়, তাহলে কি আমরা নিশ্চয়ভাবে বলতে পারি যে, রাষ্ট্র আজ সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানাচ্ছে?

এটি শুধু ব্যক্তিগত কোনো দমন নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার এবং এক পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর সংকেত। আমাদের দায়িত্ব হলো এই প্রশ্নগুলো প্রকাশ করা, সচেতন থাকা এবং নিশ্চিত করা যে, কলমের স্বাধীনতা আর রাষ্ট্রীয় হুমকির মুখে নিগৃহীত হবে না।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, মত প্রকাশের কারণে কাউকে নিশানা করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তাদের বক্তব্য নতুন নয়; বরং এটি বৈশ্বিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরই পুনরুক্তি। কারণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধু একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। এই অধিকার ক্ষুণ্ন হলে গণতন্ত্র কেবল নামেই টিকে থাকে।

আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের দিকে তাকালে আরও বড় প্রশ্ন উঠে আসে। টকশোতে বলা বক্তব্যকে ‘উসকানি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অথচ তিনি আদালতেই বলেছেন—তিনি উদাহরণ হিসেবে কথা বলেছেন, সতর্ক করেছেন, উসকে দেননি। একজন সাংবাদিকের কাজই হলো ক্ষমতার ভাষা, ক্ষমতার সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য পরিণতি বিশ্লেষণ করা। যদি সতর্ক করা, প্রশ্ন তোলা বা বিশ্লেষণ করাই সন্ত্রাসে উসকানি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সাংবাদিকতা আর অপরাধের মাঝখানের রেখাটি কোথায়?

আরও উদ্বেগজনক হলো-এই মামলাগুলোর প্রক্রিয়া। ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, মামলা ‘কোন ধারায় দেওয়া হবে’ তা নিয়ে ভাবা, তারপর জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা-এসব দৃশ্য অতীতের দমনমূলক অধ্যায়গুলোকেই মনে করিয়ে দেয়। যেসব অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন দেখেছিল দেশ।

শুধু আনিস আলমগীর নন, শওকত মাহমুদ, মঞ্জুরুল আলম পান্না, মেহেদী হাসান-এই নামগুলো মিলিয়ে একটি প্রবণতার ছবি স্পষ্ট হয়। অভিযোগ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আইন এক, পদ্ধতি এক, বার্তা এক-ভিন্নমত নিরাপদ নয়। আজ যদি সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়, আগামীকাল সেই তালিকায় কারা যুক্ত হবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে-“সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আর ফিরবে না”-এটি নিছক আবেগ নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা ভয়। এক সরকারের আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, আরেক সরকারের আমলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন-আইনের নাম বদলায়, উদ্দেশ্য বদলায় না।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি হলো-কথারও সীমা থাকা দরকার। নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জরুরি। কিন্তু দায়িত্বশীলতার সংজ্ঞা কে দেবে? রাষ্ট্র নিজেই যদি সমালোচনার বিচারক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ন্যায়বিচার অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, ক্ষমতা কখনোই নিজেকে নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারে না।

সবচেয়ে ভয়াবহ ইঙ্গিতটি এসেছে ডিটেনশন ও রিমান্ড সংস্কৃতির পুনরুত্থান থেকে। বিনা বিচারে আটক, দীর্ঘ রিমান্ড, জামিনের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা-এসব একটি রাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাসের নয়, বরং ভয় ও অনিশ্চয়তার লক্ষণ। শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রশ্নে ভয় পায় না; দুর্বল রাষ্ট্রই প্রশ্নকে অপরাধে পরিণত করে।

এই সম্পাদকীয় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়। এটি সাংবাদিকতার পক্ষে, নাগরিক অধিকারের পক্ষে, সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। আজ সাংবাদিকরা যদি সন্ত্রাসী আইনের আসামি হন, কাল সত্য বলা নিজেই অপরাধে পরিণত হবে।

রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে-সাংবাদিকতা দমন করে স্থিতিশীলতা আসে না। আসে নীরবতা, আর সেই নীরবতার নিচেই জন্ম নেয় প্রকৃত অস্থিরতা। সন্ত্রাসবিরোধী আইন যদি সত্যিই সন্ত্রাস দমনের জন্য হয়, তবে তাকে সন্ত্রাসের সংজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হোক। কলমকে বোমা বানানোর এই বিপজ্জনক প্রবণতা থেকে রাষ্ট্র যত দ্রুত সরে আসবে, ততই মঙ্গল।

কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-যে রাষ্ট্র তার সাংবাদিকদের ভয় পায়, সে রাষ্ট্র আসলে সত্যকেই ভয় পায়।

লেখক:-

মো: নুরে ইসলাম মিলন

  • যুগ্ম-সম্পাদক,দৈনিক উপচার।
  • যুগ্ম-সম্পাদক,রাজশাহী প্রেসক্লাব।
  • সভাপতি,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,রাজশাহী  বিভাগ।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাষ্ট্র যখন সাংবাদিককে সন্ত্রাসী বানায়
স্বাধীনতার নীরবতা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২২ ডিসেম্বর ২০২৫