শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন

সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন
সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন

সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পাদক–সাংবাদিকদের হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়—এটি সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আঘাত। সংবাদমাধ্যমে আগুন দেওয়া মানে সত্যের কণ্ঠ রোধ করার অপচেষ্টা, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ দেশের ভেতরে পরিকল্পিতভাবে খুন, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে—আর এর সুতো নাড়া হচ্ছে বিদেশে বসে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নীরবতা ক্রমেই অপরাধের সবচেয়ে বড় সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, সবার আগে আমরা মানুষ। এই মৌলিক মানবিক সত্য ভুলে গিয়ে কাউকে অমানুষের মতো আচরণে ঠেলে দেওয়া হলে, সেই আচরণের পরিণতি শেষ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি স্তরকেই গ্রাস করবে। আজ যে অবমাননা অন্যের ওপর চাপানো হচ্ছে, কাল সেই অবমাননাই ফিরে এসে নিজের দরজায় কড়া নাড়াবে।

প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, সংবাদ সংগ্রহকালে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের হেনস্তা—এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এগুলো একটি ভয়ংকর প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ, যা গণতান্ত্রিক সমাজকে ধীরে ধীরে বর্বরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সভ্য সমাজে মতভিন্নতা থাকতে পারে, সমালোচনা হতে পারে—কিন্তু সহিংসতা কখনোই তার জবাব হতে পারে না।

এ কথা স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন-সাংবাদিকেরা কারও ব্যক্তিগত শত্রু নন। সমাজে যা ঘটে, তা নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় সাংবাদিকদেরও ক্ষমতার চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে হয়। তবুও সত্য বলা থেমে থাকে না। সংবাদমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ ভাবা হলে সেটি হবে চরম ভুল। সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হেনস্তা কিংবা মারধর করে সত্যকে দমন করা যায় না-ইতিহাস তারই সাক্ষ্য দেয়।

সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। কলম ভাঙলে প্রতিবাদ আরও ধারালো হয়, কণ্ঠরোধ করলে সত্য আরও উচ্চকণ্ঠে কথা বলে। গণতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষায় স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সত্যকে দাবিয়ে রাখার সব চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে-ভবিষ্যতেও হবে। সাংবাদিকতা কখনো পরাজিত হয় না, কারণ সত্যের পরাজয় নেই।



সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন

সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:-
সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন
সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন

সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পাদক–সাংবাদিকদের হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর আঘাত নয়—এটি সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আঘাত। সংবাদমাধ্যমে আগুন দেওয়া মানে সত্যের কণ্ঠ রোধ করার অপচেষ্টা, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ দেশের ভেতরে পরিকল্পিতভাবে খুন, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে—আর এর সুতো নাড়া হচ্ছে বিদেশে বসে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নীরবতা ক্রমেই অপরাধের সবচেয়ে বড় সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, সবার আগে আমরা মানুষ। এই মৌলিক মানবিক সত্য ভুলে গিয়ে কাউকে অমানুষের মতো আচরণে ঠেলে দেওয়া হলে, সেই আচরণের পরিণতি শেষ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি স্তরকেই গ্রাস করবে। আজ যে অবমাননা অন্যের ওপর চাপানো হচ্ছে, কাল সেই অবমাননাই ফিরে এসে নিজের দরজায় কড়া নাড়াবে।

প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, সংবাদ সংগ্রহকালে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের হেনস্তা—এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এগুলো একটি ভয়ংকর প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ, যা গণতান্ত্রিক সমাজকে ধীরে ধীরে বর্বরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সভ্য সমাজে মতভিন্নতা থাকতে পারে, সমালোচনা হতে পারে—কিন্তু সহিংসতা কখনোই তার জবাব হতে পারে না।

এ কথা স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন-সাংবাদিকেরা কারও ব্যক্তিগত শত্রু নন। সমাজে যা ঘটে, তা নিরপেক্ষভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় সাংবাদিকদেরও ক্ষমতার চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে হয়। তবুও সত্য বলা থেমে থাকে না। সংবাদমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ ভাবা হলে সেটি হবে চরম ভুল। সংবাদ সংগ্রহে বাধা, হেনস্তা কিংবা মারধর করে সত্যকে দমন করা যায় না-ইতিহাস তারই সাক্ষ্য দেয়।

সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। কলম ভাঙলে প্রতিবাদ আরও ধারালো হয়, কণ্ঠরোধ করলে সত্য আরও উচ্চকণ্ঠে কথা বলে। গণতন্ত্রের অস্তিত্ব রক্ষায় স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। সত্যকে দাবিয়ে রাখার সব চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে-ভবিষ্যতেও হবে। সাংবাদিকতা কখনো পরাজিত হয় না, কারণ সত্যের পরাজয় নেই।



সংবাদমাধ্যমে হামলা: রাষ্ট্রের বিবেকের ওপর আগুন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫