রাজশাহীতে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু ও হত্যার রহস্য উদঘাটন
রাজশাহী মহানগরীতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক অজ্ঞাতনামা পুরুষকে গুরুতর অবস্থায় নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন (brought dead)। পরবর্তীতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি মোঃ রাকিবুল হাসান (৩১), পিতা এ. আলমগির হোসেন, মাতা জোসনা, সাং হেতেমখাঁ, থানা বোয়ালিয়া, রাজশাহী মহানগর।
ঘটনার পর রাজপাড়া থানা পুলিশ নার্সিং কলেজ ক্যাম্পাস ও চারু মামার ক্যান্টিন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করলে ঘটনার সাথে রাজশাহী নার্সিং কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক আলামত পাওয়া যায়। এরপর ১৯ জুন দুপুর ১২টার দিকে রাজপাড়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন আতিক হাসান, সৈয়ব (ইন্টার্ন শিক্ষার্থী) এবং ফাহিম রেজা ববি (চতুর্থ বর্ষ, রাজশাহী নার্সিং কলেজ)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে আটক করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ধারণা করছে, নিহত ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে মারধর করা হয় এবং তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে, যার নম্বর ২৪ এবং তারিখ ১৯-০৬-২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় দ্রুত ও পেশাদার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই এবং অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।