রবিবার , ১৭ মে ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল

গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে নতুন মোড়
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানাকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে টপসয়েল নিধন সিন্ডিকেট, মাদক সিন্ডিকেটের সাথে সংশ্লিষ্টতা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকাশ হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গোদাগাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেট ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, বিশেষ করে হেরোইন ব্যবসা নিয়ে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয়। প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযানে এসব সিন্ডিকেট চাপে পড়লে সম্প্রতি কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশ শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে এসআই জুয়েল রানার নাম সামনে আনা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর দেয়া একটি লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগে এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অভিযোগকারী পক্ষ নিয়েও নানা প্রশ্ন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মাটি কাটার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাবুল আখতার নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে হেরোইন ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, একসময় রাজমিস্ত্রির কাজ করা বাবুল আখতার বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় নামে-বেনামে জমি ক্রয়, বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ ও ট্রাকযোগে মাদক সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি গোদাগাড়ী এলাকায় মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত ও নজরদারি জোরদার করা হয়। এর পর থেকেই কিছু মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যদের সামাজিকভাবে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে অডিও, অভিযোগপত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে।

এসআই জুয়েল রানা এর আগে র‍্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ সদর থানা, রায়গঞ্জ থানা ও তানোর থানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসেনি বলে দাবি করেছেন পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, গোদাগাড়ীতে যোগদানের পর থেকেই তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ফলে মাদক কারবারিদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে টার্গেট করেছে।

গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

এসআই জুয়েল রানা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় বিভিন্ন পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়। আমি কারও কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে। একইসঙ্গে তারা বলছেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, আর যদি পরিকল্পিতভাবে মানহানির চেষ্টা করা হয়ে থাকে তবে সেই চক্রকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।

গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ মে ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ১৭ মে ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল

গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে নতুন মোড়
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানাকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে টপসয়েল নিধন সিন্ডিকেট, মাদক সিন্ডিকেটের সাথে সংশ্লিষ্টতা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকাশ হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গোদাগাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেট ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, বিশেষ করে হেরোইন ব্যবসা নিয়ে একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয়। প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযানে এসব সিন্ডিকেট চাপে পড়লে সম্প্রতি কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশ শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে এসআই জুয়েল রানার নাম সামনে আনা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ বরাবর দেয়া একটি লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগে এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অভিযোগকারী পক্ষ নিয়েও নানা প্রশ্ন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মাটি কাটার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাবুল আখতার নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে হেরোইন ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, একসময় রাজমিস্ত্রির কাজ করা বাবুল আখতার বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় নামে-বেনামে জমি ক্রয়, বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ ও ট্রাকযোগে মাদক সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি গোদাগাড়ী এলাকায় মাদক কারবারিদের তালিকা প্রস্তুত ও নজরদারি জোরদার করা হয়। এর পর থেকেই কিছু মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যদের সামাজিকভাবে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে অডিও, অভিযোগপত্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে।

এসআই জুয়েল রানা এর আগে র‍্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ সদর থানা, রায়গঞ্জ থানা ও তানোর থানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসেনি বলে দাবি করেছেন পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, গোদাগাড়ীতে যোগদানের পর থেকেই তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ফলে মাদক কারবারিদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে টার্গেট করেছে।

গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

এসআই জুয়েল রানা বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় বিভিন্ন পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়। আমি কারও কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে। একইসঙ্গে তারা বলছেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্য দুর্নীতিতে জড়িত থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, আর যদি পরিকল্পিতভাবে মানহানির চেষ্টা করা হয়ে থাকে তবে সেই চক্রকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।

গোদাগাড়ীতে মাদক সিন্ডিকেটের আতঙ্ক এসআই জুয়েল
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ মে ২০২৬