রবিবার , ০৩ মে ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম

সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :-
সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম

৩রা মে-বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্য প্রকাশের পথ কখনোই সহজ ছিল না, আজও নয়। তবুও যুগে যুগে কিছু মানুষ সাহস করে কলম ধরেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, অন্ধকার ভেদ করে সত্যকে তুলে ধরেছেন। সেই মানুষগুলোর নাম-সাংবাদিক।

“সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম”-এই কথাটি নিছক আবেগ নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন। কারণ আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে বাস করছি, যেখানে সত্য উচ্চারণ অনেক সময়ই হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই নানা ধরনের চাপ, হুমকি কিংবা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয় সংবাদকর্মীদের।

তবুও সাংবাদিকরা থেমে থাকেন না। কারণ তারা জানেন, তাদের কাজ কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়-বরং সমাজের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। একজন সাংবাদিকের কলম সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার অস্ত্র, ন্যায়বিচারের দাবি তোলার শক্তি। তাই এই পেশাকে অপরাধের চোখে দেখা শুধু অন্যায় নয়, এটি একটি জাতির গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর আঘাত।

একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। যেখানে সাংবাদিকরা ভয়মুক্তভাবে কাজ করতে পারবেন, সত্য তুলে ধরতে পারবেন নির্ভয়ে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হুমকি বা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলে। এটি কেবল ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্যই একটি অশনি সংকেত।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের বিস্তার যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি মিথ্যা তথ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একজন প্রকৃত সাংবাদিকের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। যাচাই-বাছাই করে, বস্তুনিষ্ঠভাবে এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। কারণ একটি সঠিক সংবাদ যেমন আলোর পথ দেখায়, তেমনি একটি ভুল তথ্য অন্ধকারকে আরও ঘনীভূত করে।

সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়-এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব, একটি সামাজিক অঙ্গীকার। যারা সত্যের পথে আপসহীন থাকেন, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের আলোকবর্তিকা। তাদের এই পথচলা সহজ নয়, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবসে আমাদের প্রত্যয় হোক-সত্য বলার সাহস হারাবো না, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। কারণ, সত্যকে চেপে রাখা যায়, কিন্তু থামিয়ে রাখা যায় না। আর সেই সত্যেরই নির্ভীক বাহক সাংবাদিকতা।


লেখক : মোঃ নুরে ইসলাম মিলন

সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী বিভাগ।

সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৩ মে ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ০৩ মে ২০২৬
হোমসম্পাদকীয়সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম

সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :-
সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম

৩রা মে-বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবস। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, সত্য প্রকাশের পথ কখনোই সহজ ছিল না, আজও নয়। তবুও যুগে যুগে কিছু মানুষ সাহস করে কলম ধরেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, অন্ধকার ভেদ করে সত্যকে তুলে ধরেছেন। সেই মানুষগুলোর নাম-সাংবাদিক।

“সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম”-এই কথাটি নিছক আবেগ নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন। কারণ আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে বাস করছি, যেখানে সত্য উচ্চারণ অনেক সময়ই হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই নানা ধরনের চাপ, হুমকি কিংবা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয় সংবাদকর্মীদের।

তবুও সাংবাদিকরা থেমে থাকেন না। কারণ তারা জানেন, তাদের কাজ কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়-বরং সমাজের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। একজন সাংবাদিকের কলম সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার অস্ত্র, ন্যায়বিচারের দাবি তোলার শক্তি। তাই এই পেশাকে অপরাধের চোখে দেখা শুধু অন্যায় নয়, এটি একটি জাতির গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর আঘাত।

একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। যেখানে সাংবাদিকরা ভয়মুক্তভাবে কাজ করতে পারবেন, সত্য তুলে ধরতে পারবেন নির্ভয়ে। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সত্য প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হুমকি বা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলে। এটি কেবল ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্যই একটি অশনি সংকেত।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের বিস্তার যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি মিথ্যা তথ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে একজন প্রকৃত সাংবাদিকের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। যাচাই-বাছাই করে, বস্তুনিষ্ঠভাবে এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। কারণ একটি সঠিক সংবাদ যেমন আলোর পথ দেখায়, তেমনি একটি ভুল তথ্য অন্ধকারকে আরও ঘনীভূত করে।

সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়-এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব, একটি সামাজিক অঙ্গীকার। যারা সত্যের পথে আপসহীন থাকেন, তারাই প্রকৃত অর্থে সমাজের আলোকবর্তিকা। তাদের এই পথচলা সহজ নয়, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিশ্ব সংবাদপত্র স্বাধীনতা দিবসে আমাদের প্রত্যয় হোক-সত্য বলার সাহস হারাবো না, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। কারণ, সত্যকে চেপে রাখা যায়, কিন্তু থামিয়ে রাখা যায় না। আর সেই সত্যেরই নির্ভীক বাহক সাংবাদিকতা।


লেখক : মোঃ নুরে ইসলাম মিলন

সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী বিভাগ।

সত্য বলা যদি অপরাধ হয়, তবে সাংবাদিকতাই সেই ‘অপরাধের’ নাম
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৩ মে ২০২৬