রাজশাহীর সীমান্তে সক্রিয় আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচার চক্র
রাজশাহীর সীমান্তকে ব্যবহার করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ অস্ত্র পাচার চক্র-এমনই ইঙ্গিত মিলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর ধারাবাহিক অভিযানে। সর্বশেষ রাজশাহীর বাঘা থানাধীন সীমান্তবর্তী রাওথা এলাকায় ভোররাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে দুইটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি। অভিযানের সময় পাচারকারী মোটরসাইকেলসহ অস্ত্রের চালান ফেলে পালিয়ে যায়, যা সীমান্তে সুসংগঠিত অপরাধচক্রের অস্তিত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।
গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ বিজিবির সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি নিশ্চিত হয় যে, নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের একটি চালান প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সীমান্তবর্তী সব বিওপির সমন্বয়ে বিশেষ অভিযানিক দল গঠন করা হয় এবং সম্ভাব্য পাচার রুটে আগে থেকেই কৌশলগতভাবে অ্যাম্বুস করে অবস্থান নেয় বিজিবির সদস্যরা।
দীর্ঘ সময় নজরদারির পর ভোরের আলো ফোটার মুহূর্তে বাঘা থানাধীন রাওথা-পিরোজপুর সীমান্ত এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখে অ্যাম্বুস দল। বিজিবির সদস্যরা মোটরসাইকেলটির গতি রোধ করার চেষ্টা করলে চালক দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই পরিত্যক্ত মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে সিটের নিচে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় দুইটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্রগুলো অত্যন্ত কৌশলে বহনের উপযোগী করে রাখা হয়েছিল, যা প্রশিক্ষিত পাচারকারীর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়। রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচারের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে বিজিবির কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো দেশের অভ্যন্তরে সংঘবদ্ধ অপরাধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পালিয়ে যাওয়া পাচারকারী ও তার সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও গত ১৭ জানুয়ারি কাটাখালী পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় একই ধরনের দুইটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছিল বিজিবি। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই পরিমাণ ও একই ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সীমান্তকে ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র মজুদের আশঙ্কাকে জোরালো করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী নদীপথ ও জনমানবহীন এলাকাকে ব্যবহার করে একটি সুপরিকল্পিত অস্ত্র পাচার রুট গড়ে তোলা হয়েছে, যার সঙ্গে স্থানীয় দালাল ও আন্তঃদেশীয় চক্রের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে এই চক্রের তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্র পাচার সম্পূর্ণভাবে নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।