পক্ষপাতহীন খাতা মূল্যায়নের দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে নাম-রোলবিহীন ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে পাস হওয়ার ১৩ মাস পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত এ আধুনিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেনি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সনাতন পদ্ধতিতে উত্তরপত্রের কভারে নাম ও রোল নম্বর দৃশ্যমান থাকায় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অবচেতনভাবেই পক্ষপাতিত্বের সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে বিভাগের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক রাজনীতি, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা ব্যক্তিগত পরিচিতির কারণে নম্বর বৈষম্যের শিকার হন অনেক শিক্ষার্থী। পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীর নাম বা রোল নম্বরের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোড নম্বর বসানোর ব্যবস্থা করা হলে পরীক্ষকের পক্ষে উত্তরপত্রধারীর পরিচয় জানা সম্ভব হবে না। ফলে নম্বর বৈষম্যের অবসান ঘটবে এবং পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ আস্থা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ জুন ‘রাবি সংস্কার আন্দোলন’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে ৯ দফা দাবিতে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নাম-রোলবিহীন গোপন কোডিং পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিগত বছরের ১৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের পরিচয় গোপন রাখতে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে সেই সিদ্ধান্তের এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সমাজকর্ম ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আধুনিক যুগে এসে এখনো পরিচয় প্রকাশ রেখে খাতা মূল্যায়ন শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের সঙ্গে বেমানান। একাডেমিক কাউন্সিলে গৃহীত সিদ্ধান্তের পর এত দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়া প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, কোনো ধরনের অজুহাতে সময়ক্ষেপণ না করে মেধার সঠিক মূল্যায়নের স্বার্থে দ্রুত এই কোডিং সিস্টেম কার্যকর করতে হবে।
বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. হাসনাত কবীর জানান, সিদ্ধান্তটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত রয়েছে এবং এতে কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নেই। মূলত সফটওয়্যার ও কারিগরি কিছু প্রস্তুতিমূলক সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন তা চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসন এ বিষয়ে কাজ করছে এবং নতুন শিক্ষাবর্ষ (২০২৫-২৬ ব্যাচ) থেকে কোডিং পদ্ধতি কার্যকর করার জোর প্রস্তুতি চলছে। নতুন ব্যাচ থেকে পর্যায়ক্রমে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষাবর্ষে চালু করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।