মানহানির অপচেষ্টা, সংবাদে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান বাগমারা পীরগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষের
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুর রউফ লিটন তাঁর বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত সংবাদকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘বাগমারায় জাল সনদে চাকরি, ২১ বছর পর মামলা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ আবদুর রউফ লিটন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত নিয়োগ নিয়ে যে ধরনের তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ একপাক্ষিক এবং বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান ছাড়াই পরিবেশিত হয়েছে। জাল সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা আদৌ সত্য নয়।
অধ্যক্ষ লিটন অতীতের আইনি প্রক্রিয়া স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০১৮ সালে রাজশাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণ সনদ নিয়ে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিষয়টির নিরপেক্ষ ও চুলচেরা তদন্ত করে। তদন্ত শেষে সিআইডি অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি মর্মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে ২০২৩ সালে একটি বিশেষ মহল তাঁর প্রশিক্ষণ সনদ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৃথক আরেকটি মনগড়া অভিযোগ দায়ের করে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক তদন্ত পরিচালনার পরও সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মীমাংসা হওয়াটাই বিধিসম্মত। কিন্তু কোনো চূড়ান্ত রায় বা দালিলিক প্রমাণ ছাড়া একপাক্ষিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তাঁকে ‘জাল সনদধারী’ হিসেবে উপস্থাপন করায় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, শিক্ষক সমাজের মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তাঁর সনদ কিংবা নিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত মূল নথিপত্র পর্যালোচনা করলেই স্বচ্ছ হয়ে যাবে। তাই স্পর্শকাতর বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সত্য তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদটি পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে যথাযথ সংশোধনী প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।