রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসি) নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে সংঘটিত এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতেই তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আহত শিক্ষার্থীরা সবাই রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা হলেন—ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। সংঘর্ষের পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের ক্যাম্পাসের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের দুজন নবীন শিক্ষার্থীর মধ্যে দর্শক সারির চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। তৎকালীন উপস্থিত জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। তবে রাত ৯টার দিকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী রসায়ন বিভাগের ওই শিক্ষার্থীকে পুনরায় একা পেয়ে মারধর করেন। এ ঘটনার জেরে রাত ১০টার দিকে উভয় পক্ষ নিজ নিজ বিভাগের সহপাঠী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জড়ো করলে উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছায় এবং একপর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় রবীন্দ্র ভবনের শিক্ষকদের কয়েকটি অফিস কক্ষ এবং জাবীর ইবনে হাইয়ান বিজ্ঞান ভবনের রসায়ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছুটে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আবদুল আলিমসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন উপ-উপাচার্য। কমিটিতে কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপ-উপাচার্য বলেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গঠিত তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেবে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।