রাণীনগরে ৯০টি ব্রিজ-কালভার্ট দখল ও অকেজো
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অবৈধ দখল, পুকুর খনন ও ভাঙাচোরা অবকাঠামোর কারণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অন্তত ৯০টি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ও কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে প্রতি মৌসুমে প্রায় তিন হাজার বিঘা উর্বর ফসলি জমি সম্পূর্ণ অনাবাদি থাকছে এবং তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট।
সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ৬২১টি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের আওতায় ৯৩৮টিসহ মোট ১ হাজার ৫৫৯টি ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে। তবে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ৭২টি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, পারইলে ১৪টি, একডালায় ১০টি, কালীগ্রামে ১৮টি, বড়গাছায় ১৯টি, খট্টেশ্বর রাণীনগরে ১১টি, কাশিমপুরে ৭টি, মিরাটে ৩টি এবং গোনা ইউনিয়নে ৮টি অবকাঠামো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কেবল বড়গাছা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডেই ১১টি ব্রিজ ও কালভার্ট দিয়ে পানি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় চরম অব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া দখলের চিত্র। রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের ঘোষগ্রাম বাঘারপুকুর এলাকায় কালভার্টের মুখ আংশিক বন্ধ করে চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, পানি সরতে না পেরে শুধু ওই এলাকাতেই চার থেকে পাঁচ শত বিঘা জমি প্লাবিত হয়েছে এবং ঘোষগ্রাম পূর্বপাড়া, শাহপাড়া, হিন্দুপাড়া ও মাঝিপাড়ার বহু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। একই চিত্র দেখা গেছে শলিয়া গ্রামে; সেখানে মাঠের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টের মুখ মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলায় প্রায় এক হাজার বিঘা জমির আবাদ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
অন্যদিকে সরকারি বিপুল ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোরও চরম অপব্যবহার চলছে। উপজেলার কুবরাতলী-গোনা সড়কে গোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৫ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজের মুখ আড়াআড়িভাবে আটকে ব্যক্তিগত মাছ চাষ করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা নিজেদের স্বার্থরক্ষার অজুহাত দিলেও এর ফলে উজানের বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ পানির নিচে তলিয়ে কৃষকদের চরম বিপর্যয়ে ফেলছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতি বছর উপজেলার অন্তত ২ হাজার ৮৫০ বিঘা জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে কিছু কালভার্টের মুখ তাৎক্ষণিকভাবে উন্মুক্ত করা হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্ট পুনর্নির্মাণের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।