নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিললে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব
আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া এবং দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়কে সাকিব আল হাসান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে তিনি অবিলম্বে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মনোভাব প্রকাশ করেন।
রয়টার্সকে সাকিব আল হাসান বলেন, "সরকার যদি আমার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে আমি দেশে ফিরতে শতভাগ প্রস্তুত। সেখানে গিয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াসহ প্রয়োজনীয় সকল আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে আমার কোনো আপত্তি নেই।" নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা প্রসঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমি জানি আমি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।"
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সে সময় তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরেMirpur টেস্টের মাধ্যমে ঘরের মাঠে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা থাকলেও, নিরাপত্তা শঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে দুবাই বিমানবন্দর থেকেই ফিরে যেতে হয়েছিল।
মাঠের ক্রিকেটকে এখনই বিদায় না জানানো সাকিব এখনো দেশের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখছেন। দেশের মাটিতে একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বিদায়ী ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাঁর।
গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাকিব জানান, দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের দলনেত্রী যে নির্দেশনা দেবেন, আমরা তা-ই অনুসরণ করব। আমি বিশ্বাস করি, তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন এবং আমরা সেই অনুযায়ী চলব।" যদি এককভাবে এখনই ফেরা সম্ভব না হয়, তবে শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন বলে জানান এই অলরাউন্ডার।
সম্প্রতি ভারতের নয়া দিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের অংশগ্রহণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তবে এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই জানিয়ে সাকিব বলেন, ওই সম্মেলনে তিনি কেবল বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সার্বিক অগ্রগতির সপক্ষেই বক্তব্য রেখেছেন।
দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আইনি জটিলতা সত্ত্বে মাঠের পারফর্ম্যান্সে মনোযোগী থেকে লাল-সবুজের পতাকাতলে আবার ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।